নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ১৯:০৪ পিএম
মঙ্গলবার সরেজমিনে নবীপুর ইউনিয়নে দেখা গেছে বাসিন্দারা বসতঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছে। প্রবা ফটো
টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে নোয়াখালীর ৯ উপজেলার লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এরইমধ্যে বসতঘর, গ্রামীণ সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। বসতঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন তারা।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নে দেখা যায় বাসিন্দারা বসতঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় মাইজদী শহরে ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
নবীপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, বাড়িতে থাকার অবস্থা নাই। রান্নাঘর, হাস মুরগীর ঘরসহ সব ডুবে গেছে। বাড়িঘর ছেড়ে চৌমুহনী যাচ্ছি। সেখানে আত্মীয়ের বাসায় যাবো। যত পশুপাখি ছিল সব নিয়েই যাচ্ছি। যদি পানি কমে তাহলে বাড়ি ফিরবো।
বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা মো. ইফতি বলেন, খাল দখল করে দোকানপাট নির্মাণ করায় পানি নামছেনা। আমরা চাই প্রশাসন খুব দ্রুত এসব খাল উদ্ধার করুক। এতে করে পানি নেমে গেলে সকল অচলাবস্থা কেটে যাবে।
কবিরহাট উপজেলার বাসিন্দা মোকাররম মীর বলেন, আমাদের এখানে পানি না নামার কারণ অবৈধ বাধ দিয়ে মাছ চাষ করা। তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে যদি সেনাবাহিনী এসব বাধ কেটে দেয় তাহলে আমাদের উপকার হয়।
সেনবাগ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিসান বিন মাজেদ, বেগমগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুর রহমান, কবিরহাট উপজলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন অবৈধ বাধ দখল ও খাল উদ্ধারের অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তারা বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা সবাই সাধারণ মানুষদের নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাধ কেটে দেওয়া হয়েছে। খাল নালা পরিস্কারের কার্যক্রম অব্যাহত আছে। মানুষদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। এতে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিষ্ঠানে আসতে হয়। যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। সার্বিক বিবেচনায় বন্যা কবলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রতিষ্ঠান চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।