চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৪ ১৬:৪০ পিএম
ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে। প্রবা ফটো
মৌসুমী বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরসমান পানিতে ডুবে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী ও পথচারীরা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন, এমন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে আরো দুয়েকদিন। তাই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসেরও আশঙ্কা রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূঁইয়া প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের কারণে মৌসুমী বায়ুরর সক্রিয় প্রভাবে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা ১২টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরমধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালার প্রভাবে উপকূলে ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেয়া হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টা ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এর প্রভাবে পাহাড় ধসেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সকাল থেকে বৃষ্টিপাত বেড়ে যাওয়ায় নগরীর মুরাদপুর, জিইসি, দুই নম্বর গেইট এলাকার প্রধান সড়ক এবং নিচু এলাকার পাশাপাশি অলি-গলিতেও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে জোয়ারের পানিও যুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর বহদ্দারহাট ফরিদার পাড়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, ষোলশহর, মোগলটুলী, আগ্রাবাদ, ট্রাঙ্ক রোড, বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা, চান্দগাঁও, খতিবের হাট, শুলকবহর, সিঅ্যান্ডবি কলোনিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ও পথচারীরা। অনেকের নিচতলার বাসা-বাড়ি ও দোকানে পানি ঢুকে চরম দুভোগে পড়েছেন। এতে যথারীতি সিডিএ ও সিটি করপোরেশনের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
মুরাদপুর এলাকার মো. সোলেমান নামে এক বাসিন্দা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, সকালে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ব্যক্তিগত একটা কাজে বাসার বের হয়ে দেখি মুরাদপুর এলাকায় কোমরসমান পানি। পরে মুরাদপুর থেকে রিক্সা নিয়ে যাওয়ার সময় দুই নম্বর গেইট, জিইসি, ওয়াসা মোড়ের আগ পর্যন্ত হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠে গেছে। আগে তো মেইন রোডে পানি উঠতো না। এখন দেখছি মেইন রোডেও পানি। কি কাজ করেছে সিডিএ, সিটি করপোরেশন। ওরা তো ঠিক মতো নালাও পরিস্কার করেনি। তা না হলে এভাবে মেইন রোডে কিভাবে পানি উঠে যায়। কি কাজ হয়েছে বা করেছে? দেশ সংস্কারের পাশাপাশি এসব প্রকল্প সঠিকভাবে কাজ হয়েছে কিনা তা তদন্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। নয়তো আমাদের দুঃখ যাবে না।
একইভাবে মো. পিয়াল নামে বাকলিয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, সকাল তো খুব বৃষ্টি বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, এখনো হচ্ছে। এরসঙ্গে জোয়ারের পানিও যুক্ত হয়েছে। তাই এলাকায় বেশি পানি উঠে গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে সিডিএ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ করছে, কিন্তু বৃষ্টি হলেই পানি উঠে। তা কমছে না। প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়। তাই সংশ্লিষ্টদের এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার আহবান জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাঁচ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের কাজ করছে। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের আগস্টে শর্ত সাপেক্ষে একনেক অনুমোদন দিলেও দুইবছর পর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরই মধ্যে ছয় বছর পার হলেও প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। আর সিটি করপোরেশনও জলাবদ্ধতা নিয়ে খুবেকটা কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারেনি।