চাটমোহর উপজেলা পরিষদ
চাটমোহর (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ০০:২৫ এএম
আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ০০:৩২ এএম
পদ নেই, বেতন নেই, হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেই, তারপরও বছরের পর বছর উপজেলা পরিষদে চেয়ার আঁকড়ে ধরে রয়েছেন পাবনার চাটমোহর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা টেকনিশিয়ান ইকবাল হোসেন।
তার বিরুদ্ধে অভিযোগ- তার বেতনের টাকা কোথা থেকে আসে, কে দেয় তা-ও অজ্ঞাত। যখন যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চাটমোহরে এসেছেন তখনই তাকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে নিজের চেয়ারটি দখলে রেখেছেন তিনি। চেয়ারটি দখলে রেখে অবৈধ আয়ের টাকায় বিলাসী জীবনযাপন করছেন।
এ ছাড়া সম্প্রতি পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মহেলা ওয়াকফ হাটের ইজারা কার্যক্রমের সময় আব্দুল জব্বারের তারিখবিহীন দরপত্র গ্রহণ করেন ইকবাল। ৩০ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত হাটের খাস আদায়ের চিঠি দেওয়া হয়, যেখানে আবেদনের তারিখ দেখানো হয় ২৫ মে। অর্থাৎ আবেদনের ১ মাস আগেই খাস আদায়ের চিঠি দেওয়া হয়।
ছাত্র-জনতা রবিবার (১৮ আগস্ট) চাটমোহর উপজেলা গেটে দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধন করে। এ মানববন্ধন থেকে ইকবালসহ সকল দুর্নীতিবাজের অপকর্ম তদন্তপূর্বক শাস্তি দাবি করেন। মানববন্ধনে ছাত্র-জনতার পক্ষে শেখ জাবের আল শিহাব, ওয়াহিদিল সরকার, ফয়সাল কবির, পারভীন সুলতানা মুক্তা, সাজেদুর রহমান সেজান, রাকিবুল ইসলাম হৃদয়, আবু সাঈদ মাসুক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, চাটমোহরে সকল সরকারি দপ্তরে দুর্নীতির গন্ধ রয়েছে। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারা তিন দিনের সময় চেয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কোনো কাজ হয়নি। যার কারণে মানববন্ধনের মাধ্যমে আমাদের এই প্রতিবাদ।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট অবৈধ পন্থায় চেয়ার দখলে রাখা এবং ইকবালের দুর্নীতির প্রতিবাদে চাটমোহরের ছাত্র-জনতা পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ইনফো সরকার প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল ব্যাকবোন স্থাপনের কাজ হাতে নেয়। ২০১৪ সালে ইকবাল হোসেন এ প্রকল্পে উপজেলা টেকনিশিয়ান পদে চাকরি পান। ২০১৭ সাল পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও অদ্যাবধি বহাল তবিয়তে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন ইকবাল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা বিষয়টি জানলেও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করে তাকে দিয়ে সরকারের গুরত্বপূর্ণ গোপনীয় ফাইলসহ সমস্ত কার্যক্রম চালিয়ে নিয়েছেন, এখনও নিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইকবাল হোসেনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেদুয়ানুল হালিমকে একাধিকবার ফোন করলে তিনিও রিসিভ করেননি।