পাবনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৪ ০০:০৪ এএম
ছাত্র-জনতাকে লক্ষ্য করে গুলি করছেন এমপি প্রিন্স। প্রবা ফটো
পাবনা সদর আসনের সাবেক এমপি গোলাম ফারুক প্রিন্সের নির্দেশেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্র-জনতার গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে গুলিবর্ষণ করেছিলেন পাবনার ভাঁড়ারার সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান ও তার সহযোগীরা।
রবিবার (১৮ আগস্ট) গণমাধ্যমের কাছে এসব তথ্য জানান গুলিবর্ষণকারী আবু সাঈদ খানকে গুলি এগিয়ে দেওয়া সহযোগী সোহেল খান। এর আগে ভোরে পাবনা সদরের নলদাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
সোহেল খান গণমাধ্যমকে জানান, তারা ওই দিন (৪ আগস্ট) পাবনা শহরের গোডাউন মোড়ে অবস্থান করছিলেন কিন্তু এমপি প্রিন্স তখন ফোন করে সাঈদ চেয়ারম্যানকে। এই ফোন পাওয়ার পরই সাঈদ চেয়ারম্যান সবাইকে সঙ্গে নিয়ে শহরের দিকে আসে এবং গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করে। পরে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তারা শালগাড়িয়া হয়ে পালিয়ে যায়।
এর আগে র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কোম্পানি কমান্ডার মেজর এহতেশামুল হক খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল খান হত্যাকাণ্ডের অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। এ ছাড়াও জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সন্ত্রাসীদের সম্পর্কেও তথ্য প্রদান করেছে। অভিযুক্ত সকলকে ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, গত ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে পাবনা শহরের ট্রাফিক মোড়ে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ গণ-অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ পাবনার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ খান ও তার সহযোগীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ঘটনায় ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।