রিপন আকন্দ, গাইবান্ধা
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:২০ পিএম
গাইবান্ধা জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়। প্রবা ফটো
গাইবান্ধা জেলা পরিবার-পরিকল্পনা কার্যালয়ে বদলির আবেদন করছেন একের পর এক কর্মচারী। কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্রের মানসিক অত্যাচার, সামান্যতেই কৈফিয়ত তলব করে হয়রানি, স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে তারা একে একে বদলির আবেদন করছেন বলে জানান ভুক্তভোগী কর্মচারীরা। ইতোমধ্যে বদলিও হয়েছেন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এসব বিষয় নিয়ে উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যার একটি কপি এসেছে প্রতিবেদকের হাতে। অভিযোগপত্রে উপপরিচালকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অভয় দিয়ে দ্রুত প্রকাশ্যে-গোপনে তদন্ত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকেই কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মাসুদ পারভেজ ও উত্তম কুমারের যোগসাজশে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। কর্মচারীদের মধ্যে সঠিক কর্মবণ্টন না করে তার সিন্ডিকেটকে দিয়ে প্রায় সকল কর্ম সম্পাদন করেন। এ ছাড়া সামান্যতেই কর্মচারীদের একাধিকবার কৈফিয়ত তলব, বেতন কর্তন, অন্য জেলা/বিভাগে বদলির ভয় দেখিয়ে অফিসে একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করেছেন। কোনো কর্মচারী নৈমিত্তিক/অর্জিত ছুটি চাইলে কিংবা ছুটির বিষয়ে কথা বলতে গেলেও গালাগাল করেন।
উপপরিচালকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি জেলা অফিসের মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আল আমিন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আসুতোষ চন্দ্র মোদক ও এমএলএসএস মো. মানিকুজ্জামান নিজ জেলায় চাকরিরত থাকার পরও অন্যত্র বদলির আবেদন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১ আগস্টের এক আদেশে ষাট মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আল আমিনকে লালমনিরহাট জেলা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। অপর দুজনেরর বদলির বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আরও কয়েকজন কর্মচারী অচিরেই অন্যত্র বদলির জন্য আবেদন করবেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে জেলায় সাতজন চিকিৎসা কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু উপপরিচালক তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের যোগদান করতে দেননি। এই সাত কর্মকর্তা যোগদানের অপেক্ষায় থাকার পরও তাদের যোগদান করতে না দিয়ে বিদ্যমান কয়েকজন পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে তিন-চারটি করে উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন। নিয়োগের পাঁচ মাসেও দায়িত্বভার না পেয়ে ওই সাত কর্মকর্তার পাঁচজনই বাধ্য হয়ে স্বেচ্ছায় বদলির আবেদন জানিয়ে অন্য জেলায় বদলি নিয়ে চলে যান। তার অত্যাচারে এক ইউনিয়ন পরিবার কল্যাণ সহকারীও চাকরি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপপরিচালক প্রসেনজিৎ প্রণয় মিশ্র বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ হয়েছে, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি আপনার মাধ্যমে প্রথম জানলাম।’ বিষয়টি না দেখে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এই কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পরিচালক মো. এনামুল হক বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।