ছাত্র আন্দোলনে আহত
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৪ ১৫:২০ পিএম
নাহিদুর রহমান। প্রবা ফটো
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফেনীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে চোখ হারানো ফেনীর ছাগলনাইয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র নাহিদুর রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে আন্দোলন সফল হয়েছে, কিন্তু চোখে দেখতে পারছি না।’
নাহিদ বলেন, ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য আমাদের এই আন্দোলন। যা সফল হয়েছে, আমার অন্তরে সুখ আছে, কিন্তু চোখ দিয়ে আমার সুন্দর দেশটাকে দেখতে পাচ্ছি না। অনেক কষ্ট থেকে বলছি যে, ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। যেদিন আমি সুখ করব, আনন্দ করব, ওই দিন আমার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দৌড়াতে হয়েছে চট্টগ্রামের দিকে। এমন স্বৈরাচার আর কখনও চাই না। আমি চাই কোনো দেশে এমন স্বৈরাচার না আসুক।’
তিনি আরও বলেন, ‘৪ আগস্ট আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে ছাত্র-জনতার ওপর ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। এ সময় আমি ফেনীর মহিপালে সার্কিট হাউস রোডে অন্তত চারজনকে মৃত পড়ে থাকতে দেখেছি। অসংখ্য আহত ছাত্রকে উদ্ধার করে হাসপাতালেও পাঠিয়েছি। পরদিন ৫ তারিখ দুপুরে শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে শুনে বিজয় মিছিল নিয়ে শহরের দিকে যাই। আমাদের মিছিলটি খেজুর চত্বরে গেলে লাভ মার্কেটের দিক থেকে হেলমেট পরা কয়েকজন সন্ত্রাসী আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে অনেকের সঙ্গে আহত হই আমি।’
এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি মিছিলের সামনে ছিলাম। আমার হাতে একটি পতাকা ছিল। গুলি শুরু হলে আমার চোখে লাগে। আমি কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না। চোখে হাত দিয়ে বসে পড়ি।’
নাহিদ বলেন, ‘আমি পরিবারের বড় ছেলে। আমার ওপর অনেক দায়িত্ব। এত দিন পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটখাটো কাজও করতাম। এখন আমার চোখ ভালো হবে কি না, ডাক্তাররা কিছুই বলতে পারছেন না। আমার স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি করব। কিন্তু আমি এক চোখ দিয়ে কিছু করতে পারব কি না, জানি না।’
নাহিদের বাবা বাহার মিয়া বেসরকারি চাকরিজীবী। বড় ছেলে পরিবারের হাল ধরবে ভেবে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন। সেই ছেলে এখন চোখ হারানোর শঙ্কায়। চিকিৎসা ব্যয় বহনের সাধ্যও নেই তার। তিনি বলেন, ‘আমি ছোট চাকরি করি। আশা ছিল বড় ছেলে পরিবারের হাল ধরবে। কিন্তু সে তো নিজেই আশঙ্কাজনক অবস্থায়। চোখটা যদি ভালো হয়, তাহলে অন্তত সে কিছু একটা করে চলতে পারবে। এজন্য তাকে নিয়ে বড় হাসপাতালে এসেছি। দেখি কী হয়।’
যেকোনো মূল্যে নাহিদ তার চোখ ফিরে পাবে, এটাই পরিবারের চাওয়া।