কুমিল্লা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৪ ১৭:০৭ পিএম
কুমিল্লার দেবিদ্বারে সালিশ বৈঠকে আওয়ামী লীগের ইউপি সদস্যের অনুসারীদের হামলায় এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন ২৭ আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার ফতেয়াবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিকশাচালকের নাম ছিদ্দিকুর রহমান। ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের গাবুদ্দিবাড়ির আবদুল কুদ্দুসের ছেলে তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সাইচাপাড়া বাজারে বিজয়োল্লাস করেন স্থানীয় ছাত্র-জনতা। এসময় সাইচাপাড়া বাজারে ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আমিরের অফিস থেকে শেখ হাসিনা ও দেবিদ্বারের সংসদ সদস্যের ছবি সরাতে বলা হয়। ছবি না সরালে বিক্ষুব্ধ জনতা অফিস থেকে ওই ছবিগুলো নামিয়ে কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির মেম্বার তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে আবু বকর ছানাউল নামের এক শিক্ষার্থীকে অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে মারধর করেন আমির মেম্বারের দুই ছেলে জুয়েল হোসেন ও সোহাগ। এ ঘটনার পরপর ভুক্তভোগী ছানাউল দেবিদ্বার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমির লোকজন নিয়ে শিক্ষার্থী ছানাউলদের বাড়িতে হামলার উদ্দেশে যান। সেখানে স্থানীয়রা ঘটনাটি মীমাংসার চেষ্টা করেন। পরে আমির মেম্বার সবাইকে সালিশ বৈঠক বসাতে বলেন। শুক্রবার সকাল ৮টায় সালিশের কথা ছিল।
আজ সালিশে যান গাবুদ্দিবাড়ির লোকজন। সালিশে যাওয়ার পরপরই আমির মেম্বার ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার ব্রাহ্মণপাড়ার জহিরের নেতৃত্বে অস্ত্রধারীরা গাবুদ্দিবাড়ির লোকজনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে রিকশাচালক ছিদ্দিকুরসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হাসাপাতলে নেওয়ার পর ছিদ্দিকুরের মৃত্যু হয়।
নিহত ছিদ্দিকুরের বোন মায়া আক্তার বলেন, আমার ভাই কিছু করেনাই। সালিশ দেখতে গেছিল। তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলছে। আমার ভাই তাদের কাছে একটু পানি চাইছিল। তারা একটু পানিও দেয়নাই।
সাইচাপাড়ার মোহাম্মদ আয়েজ ও তানভীর বলেন, আমরা আহতদের দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন চিকিৎসক। ছিদ্দিকুর রহমান বেলা ১১টার দিকে মারা যান।
এসব বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আমির মেম্বারকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন মিয়া বলেন, দোষীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।