চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৪ ২১:১৬ পিএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৪ ২২:০৯ পিএম
বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে জুতার মালা পরিয়ে স্থানীয় বাজারে ঘুরানো হয় সিরাজ জমাদারকে। প্রবা ফটো
ভোলার চরফ্যাশনের আবুবকরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সিরাজ জমাদারকে জুতার মালা গলায় পরিয়ে স্থানীয় রৌদেরহাট বাজারে ঘুরালেন বিক্ষুব্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে তার ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধরের পর স্থানীয় বাজারে নিয়ে জুতার মালা পরিয়ে ঘুরানো হয়।
খবর পেয়ে নৌবাহিনীর সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দুলারহাট থানায় সোপর্দ করে। সিরাজ জামাদার ওই ইউনিয়নের তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন।
এলাকাবাসীসূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার আমলে সরকারের ছত্রছায়ায় তিনি তিনবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ক্ষমতার দপটে তিনি ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের ওপর জুলম, চাঁদাবাজি, জমিদখল ও সালিশের নামে অমানুষিক নির্যাতন করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াসহ নানান অপকর্মে লিপ্ত ছিলেন।
গত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর গা-ঢাকা দেন চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদার। পরিবেশ কিছুটা শান্ত হলে তিনি রাতের আঁধারে অতিগোপনে নিজ বাড়িতে এসে আত্মগোপনে ছিলেন।
বৃহস্পতিবার তিনি বাড়িতে আত্মগোপনে আছেন এমন খবরের ভিত্তিতে বিক্ষুব্ধ জনতা তার বাড়ি ঘেরাও করে মারধর করেন। পরে তাকে জুতার মালা গলায় দিয়ে স্থানীয় রৌদের হাটে ঘুরান এবং বিক্ষোভ মিছিল করেন।
স্থানীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাইনুল ইসলাম জিহাদী জানান, তিনি এবং তার মসজিদ কমিটির সদস্যরা ওয়াজ মাহফিলের জন্য চাঁদা আদায় করতে স্থানীয় রৌদ্রের হাটে গেলে চেয়ারম্যান সিরাজ জামাদার তাকে চাঁদা তুলতে বাধা দেন এবং ওয়াজ মহফিল করা যাবে না বলে জানান। এতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে চেয়ারম্যানসহ তার দলবল তাকে ওই বাজারে প্রকাশ্য হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় তিনি ওই দিন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ। এ ছাড়াও তিনি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে একাধিক আলেমদের মারধর করেছেন। ভয়ে আতঙ্কে অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারেননি।
ওই ইউনিয়নের সামসুদ্দিন জানান, তার পারিবারিক জমি সংক্রন্ত বিরোধ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হলে তিনি তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। তার দাবি করা টাকা দিতে অপারগতা জানালে তিনি তাকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে আটকে রেখে মারধর করেন। এমনিভাবে চেয়ারম্যান সিরাজ জামাদারের নির্যাতনের শিকার ওই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে চেয়ারম্যান হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একজন ইউপি সদস্য জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত তিনবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান সিরাজ জামাদার ইউপি সদস্যদের জিম্মি করে জেলেদের নামে সরকারি বরাদ্দের শত শত টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। প্রতিবাদ জানানো একাধিক ইউপি সদস্য তার হাতে লঞ্ছিত হয়েছে। তার ক্ষমতার দাপটে কেউই প্রতিবাদ করতে পারেনি। তিনি তার ক্ষমতার দাপটে ইউপি সদস্যদের জিম্মি করে ইউনিয়ন পরিষদটাকে একটি দুর্নীতির আখড়া তৈরি করেছে।
দুলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, খবর পেয়ে জনতার হাতে অবরুদ্ধ চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে নৌবাহিনীর সদস্যরা থানায় সোপর্দ করেছেন। একাধিক ভুক্তভোগীর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।