শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবি
গোপালগঞ্জ ও বরগুনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪ ২২:২৬ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৪ ০১:১০ এএম
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার দাবিতে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেছে। প্রবা ফটো
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনায় জড়িয়েছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে চার সেনাসদস্যসহ ১০জন আহত হয়েছেন। এসময় সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ও অস্ত্র লুটসহ সংবাদ সংগ্রহকালে চ্যানেল-২৪ ও মাছরাঙার সাংবাদিককে মারধর করা হয়। শনিবার (১০ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৪টায় সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
কয়েক হাজার আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী দা, রামদা, ঢাল-সড়কি নিয়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। সেনাবাহিনী রাস্তা থেকে সরে যাওয়ার কথা বললে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে আন্দোলনকারীরা। এসময় তারা সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে সেনাসদস্যরা লাঠিচার্জ করলে আন্দোলনকারীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে সেনাবাহিনীর গাড়ি ভাংচুর করে অস্ত্র লুট করে নিয়ে যায়। সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় পুড়িয়ে ভস্মিভূত করে। স্থানীদের দাবি, সেবাবাহিনীর গুলিতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছে। সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে চ্যানেল-২৪ এর গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি বাদল সাহা ও মাছরাঙ্গার গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি সাবেত আহমেদকে মারধর করে আন্দোলনকারীরা।
সন্ধ্যা পোনে ৭টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে চলে যান। পরে আটকা পড়া যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়। সেনাবাহিনীর অস্ত্রটি নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের এক কর্মকর্তা উদ্ধার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চুর নিকট জমা দেন।
সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ আমিনুল হক লাচ্চু সেনাবাহিনীর ছিনতাই হওয়া স্টেন গানটি সেনা কর্মকর্তা কর্নেল শাফায়েতের নিকট হস্তান্তর করেন। এ সময় সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া ও বিজয় পাশা এলাকায়ও একই মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এছাড়া একই মহাসড়কের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোল চত্বর ও মুকসুদপুরে অবরোধ করে তারা।
কোটা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। সেই থেকে প্রতিনিয়ত সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে মারধরসহ ভাঙচুর, লুটপাট এমনকি আগুন দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় হত্যা করা হচ্ছে। আত্মগোপনে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রায় সব সিনিয় নেতাকর্মী। পুলিশও কর্মবিরতি। ফলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নেমেছে সেনাবাহিনী।
বরগুনায় আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ
‘আওয়ামী লীগ জনগণের দল, জনগণ আওয়ামী লীগকে আবার ক্ষমতায় আনবে। আওয়ামী লীগ পালিয়ে যাওয়ার মত দল না। নেত্রী জনগণের রক্তপাত বন্ধ করার জন্য দেশ ছেড়েছেন। জনগণের মুক্তির জন্য আবার দেশে আসবেন। আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশে হত্যা, লুট ও নৈরাজ্যের মধ্যে জনগণের পাশে থেকে কাজ করবে,’ বললেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
বরগুনায় জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। পরে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন।
বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়। সমাবেশে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং কোটাবৈষম্য আন্দোলনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব মৃধা, আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলমগীর কবির, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুখরঞ্জন রায়সহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা।