ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪ ২১:০০ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪ ২১:১০ পিএম
ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগারের একটি কক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
জেলা শহর ফেনী থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে বিলোনিয়া। এটি পরশুরাম থানার একটি অংশ। এখানে শিক্ষা-সংস্কৃতি প্রসারের জন্য কোনো সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছিল না। তাই পাঠাগারভিত্তিক শিক্ষা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগার’। এই পাঠাগার শুধু বই ও পত্রিকা পাঠের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে বিস্তৃত ছিল। কিন্তু এই পাঠাগারটি আর অক্ষত নেই। গত সোমবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর পাঠাগারটি ওপর আক্রমণ করে একদল বিক্ষুব্ধকারী। আড়াই হাজারের বেশি বিভিন্ন বইসহ আলমারি, চেয়ার, টেবিল, তাক লুটের পর পাঠাগারটি আগুন জ্বালিয়ে দেয় তারা।
জানা গেছে, শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর বিলোনিয়া, বাউরখুমা, তালুকে বিজয়োল্লাস চলাকালে একদল বিক্ষুব্ধকারী ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগারের দিকে যায়। প্রথমে তারা সেখানে ভাঙচুর করে। পরে লুট করে নিয়ে যায় অনেকগুলো চেয়ার, ফ্যান, লাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। এরপর আগুন ধরিয়ে দেয় পত্রিকা, ম্যাগাজিনসহ গবেষণা, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, গল্প, উপন্যাস, কবিতা-ছড়া, শিশুতোষের আড়াই হাজারের বেশি বই। পোড়া থেকে বাদ যায়নি দুটি কুরআন শরিফ, ৩০০টি ধর্মীয় ও ইসলামিক বইও।
এছাড়া ১৯৭১ সালে ভূমিকা রাখা জেলার এই সীমান্তবর্তী এলাকা ‘বিলোনিয়া মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি কর্নার’ নামে স্থানটিও ভেঙে জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হয়েছে। পাঠাগার কক্ষে টানানো জাতীয় কবি, বিশ্ব কবি, দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান লেখক কবি সাহিত্যিকের অসংখ্য দুর্লভ ছবিগুলো ভেঙে চুরমার করে দেয়।
ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা আলমগীর মাসুদ বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় শ্রম, মেধা, রক্ত পানি করে গড়ে তোলা হয়েছিল এই পাঠাগার। সোমবার বাড়ি থেকে শুনি পাঠাগারে হামলা হয়েছে। আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সবকিছু।’
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া ফেনী জেলার পরশুরাম উপজেলার বিলোনিয়া সীমান্তবর্তী এলাকা তালুকে অবস্থিত একমাত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান ছিল এটি। গত ছয় বছর ধরে শিক্ষা, সংস্কৃতিচর্চা আর মানুষের সেবায় নিবেদিত ছিল ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগার। মহামারি করোনা সময়ে এলাকায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ সব ধরনের সহযোগিতা পাঠাগারের সদস্যরা সেচ্ছাসেবী হয়ে করে গেছেন। বন্যাসহ যেকোনো দুর্যোগে এই পাঠাগার ও সদস্যরা কাজ করে গেছে। কিন্তু কেন ভাটিয়াল মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি পাঠাগারটি ভেঙে আগুন জ্বালিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হলো স্থানীয় বাসিন্দারাও জানেন না।
পাঠাগার পুড়ে দেওয়ার খবরে আসা নারী-পুরুষ অনেকে জানান, পাঠাগারটি এই এলাকার একমাত্র সামাজিক প্রতিষ্ঠান। এটি পুড়ে দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। যারা একাজ করেছে, তারা যেন শাস্তি পায়। আর যারা চেয়ার টেবিলসহ অন্যান্য জিনিস নিয়েছে তারা যেন স্ব- উদ্যোগে তা ফিরিয়ে দেয়।