সিরাজগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৪ ১৭:০৯ পিএম
আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৪৮ পিএম
এনায়েতপুর থানা পরিষ্কার করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ১৩ পুলিশকে পিটিয়ে হত্যার ছয়দিন পর থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে থানার কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে শিক্ষার্থীরা বিধ্বস্ত থানার কম্পাউন্ড পরিষ্কার করে ব্যবহার উপযোগী করেন।
এ ছাড়া এদিন জেলার কাজিপুর ও সলঙ্গা থানার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
এ সময় থানা কম্পাউন্ডে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টাসের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক সোইয়ব রেজা আলম, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লে. কর্নেল নাহিদ আল আমিন ও পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল প্রমুখ।
এ সময় সোয়াইব রিয়াজ আলম বলেন, ‘ছাত্রদের কারণে দেশে অনেক বিপ্লব হয়েছে। তবে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় বিপ্লব রচিত হয়েছে এই বার। এনায়েতপুরসহ সারা দেশে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে বিগত কিছুদিন আমরা কঠিন সময় অতিবাহিত করেছি।
তিনি বলেন, ‘পুলিশের থানার কার্যক্রম না থাকায় বিভিন্ন স্থানে চুরি-ডাকাতি-ছিনতাই হচ্ছে। যারা প্রকৃত অপরাধী তারা এ সময়ে এসব সুযোগ নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের বিপদ আরও বেড়েছে। এ কারণে আমরা এনায়েতপুর থানার কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি। আপনারা পুলিশের পাশে থেকে সার্বিক সহযোগিতা করবেন। আমরা চাই সবাই মিলে দেশটাকে নতুন করে সাজাতে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি আপনারা আমাদের সার্বিক সহায়তা করবেন। তবে পুলিশ সদস্যদের অনেকে এখনও ভীতির মধ্যে রয়েছে। তাদের সহযোগিতা দিয়ে আপনারা আপন করে নেবেন।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী বিভাগীয় অতিরিক্ত ডিআইজি বিজয় বসাক, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম মন্ডল, ক্যাপ্টেন সুদিপ্ত দাস, এনায়েতপুর থানা বিএনপির সদস্য সচিব মঞ্জুরুল আলম শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী সরকার মন্টু, থানা জামায়াতের আমির ডা. মো. সেলিম রেজা, সাধারণ সম্পাদক ডা. মোফাজ্জল হোসেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরা।
এদিকে এনায়েতপুর থানায় নতুন ওসি হিসেবে যোগদান করেছেন হাসিব আলম। তিনি থানার সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
চলতি মাসের ৪ তারিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি চলাকালে হামলায় নিহত হন এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ১৩ পুলিশ সদস্য ও ২ জন আন্দোলকারী। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় এনায়েতপুর থানার সব স্থাপনা ও যানবাহন। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়।