খাগড়াছড়ি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০২৪ ১৮:৪৭ পিএম
সুপ্রদীপ চাকমা। ফাইল ফটো
দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে খাগড়াছড়ির সন্তান সুপ্রদীপ চাকমার নাম ঘোষিত হয়েছে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে তিনিও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে তাদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত থাকতে না পারলেও নাম ঘোষণা করা হয়।
সুপ্রদীপ চাকমা খাগড়াছড়ির কমলছড়ি গ্রামের প্রয়াত বরুন কুমার চাকমা ও প্রয়াত পদ্মা চাকমার ছেলে। তাদের দুই সন্তান রয়েছে। তারা বর্তমানে কানাডায় থাকেন। সুপ্রদীপ চাকমার চাকরির জীবনে ১৯৮৫ সালে বিসিএস সপ্তম পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়োগলাভ করেন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সহকারী সচিব হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন।
পরে ফরেন অ্যাফেয়ার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে প্রশিক্ষণ এবং সাভার বিপিএটিসিতে ফাউন্ডেশন ট্রেনিংয়ে অংশগ্রহণ করেন। পরে ১৯৯০-১৯৯২ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ফ্রান্স ভাষা এবং ইউরোপিয়ান কূটনৈতিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ লাভ করেন। প্রশিক্ষণের পর ১৯৯২ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং সহকারী রাজধানী সচিব হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৩ সালে মরক্কোর রাবাতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সচিব হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালে প্রথম সচিব হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন।
১৯৯৬ সালে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে বাংলাদেশের দূতাবাসে কাউন্সিলর হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিচালক (রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রাচার) হিসেবে যোগদান করেন। ২০০১ সালে হাওয়াইয়ে এশিয়া প্যাসিফিক সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের ওপর তিন মাসের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০০১ সালে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বাংলাদেশের দূতাবাসে কাউন্সিলর হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৪ সালে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বাংলাদেশের দূতাবাসে মিনিস্টার হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৭ সালে বাংলাদেশে ফিরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ২০০৯ সালে ভিয়েতনামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাষ্ট্র লাওসেরও দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কোস্টারিকা, ইকুয়েডর, হন্ডুরাস, গুয়েতেমালা, পানামা ও পেরুর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সরকারের সচিব পদমর্যাদা লাভ করেন। তিনি চাকমা সম্প্রদায়ের মধ্যে সচিব পদমর্যাদা পাওয়া প্রথম কর্মকর্তা। তিনি ২০২০ সালে স্বাভাবিক অবসর যাওয়ার পূর্বে বাংলাদেশ সরকার আরও এক বছরের জন্য ২০২১ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বর্ধিত করে। সর্বশেষ চলতি বছর ২০২৩ সালে জুলাইয়ের শেষের দিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।