মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২২ ১৭:৩৩ পিএম
আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২ ১৮:১৮ পিএম
সাগরে মাছ কম ধরা পড়ায় অলস পড়ে আছে বোটগুলো। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বঙ্গোপোসাগরের মিরসরাই অংশে ভরা মৌসুমেও দেখা মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। সারাদিন বোট নিয়ে সাগরে জাল ফেলে সন্ধ্যায় তারা ফিরছেন অনেকটা খালি হাতে। এতে বিপাকে পড়েছে ৫ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার।
এ অবস্থার জন্য উপকূলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলাসহ বেশ কিছু কারণ সামনে এনেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তারা বলছেন, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না। বোটে যে তেল লাগে তার খরচ উঠছে না। আছে শ্রমিকের মজুরি। সংসার চালানোই দায় পড়েছে তাদের। তারওপর মহাজন ও এনজিওরা ঋণের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। সবমিলে নাজেহাল অবস্থা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ডোমখালী উপকূলে ক্রেতাদের প্রচুর ভিড়। কিন্তু তখনো ফেরেনি ইলিশ ধরার বোটগুলো। একটু পরই শোনা যায় ইঞ্জিনের শব্দ। ক্রেতারাও মাছ ধরার জন্য উপকূলে এগুতে থাকে। কিন্তু একেরপর এক বোটগুলো ফিরছে খালি পাটাতনে। জেলেদের চোখে-মুখে রাজ্যের হতাশা। একইভাবে হতাশ দূর-দুরান্ত থেকে আসা ক্রেতারাও।
লিটন দাশ নামের এক জেলে বলেন, ‘সাগরে ইলিশ ধরা আমাদের পৌতৃক পেশা। ছোটবেলা থেকেই এ পয়েন্টে মাছ ধরছি। কখনোই এমন হতাশ হইনি। বছর দুয়েক আগেও এখানে আমরা প্রচুর ইলিশ পেয়েছি। মিরসরাইয়ের স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে আমরা চট্টগ্রাম ও ফেনী শহরেও মাছ পাঠাতাম।’
ভরা মৌসুমে ইলিশের আকালের জন্য শিল্পয়নকে দায়ী করেন লিটন দাশ। অভিযোগ করে তিনি বলেন , বঙ্গোপসাগরের উপকূলে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলায় ইলিশের বিচরণ এ অঞ্চলে কমে গেছে। তাছাড়া এখন প্রতিনিয়তই এ রুট ব্যবহার করে বিভিন্ন ছোট বড় জাহাজ আসছে। এটাও ইলিশ না পাওয়ার আরেকটি কারণ।
‘অনেক সময় আমাদের জালও এসব জাহাজে কাটা পড়ে। তখন আমরা তীব্র ক্ষতির সমুখিন হই। ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের কারনেও মাছ কমে গেছে।’
কথা হয় মাছ কিনতে এসে খালিহাতে ফেরত যাওয়া এক ব্যক্তির সঙ্গে। মায়ানী দিঘির পাড়া এলাকার তৌহিদুল ইসলাম নামের এ ক্রেতা বলেন, ‘ঘাট থেকে ইলিশ কেনায় একটা আলাদা আনন্দ আছে। বাইক নিয়ে মাছ কিনতে এ নিয়ে ৩ দিন এসেছি। কিন্তু আমি হতাশ। কিনে নিয়ে যাওয়ার মতো মাছ পাইনি।’
উপকূলীয় জেলে সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিলাল জলদাশ বলেন, ‘মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগরের বিভিন্ন পয়েন্টের সুইচ গেইটের দরজাগুলো খুলে দেয়ায় স্রোত বেড়ে গেছে সাগরের। তাছাড়া অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মিতব্য বিভিন্ন কলকারখানার স্ক্র্যাপ বর্জ্য সাগরের পানি দূষিত করে ইলিশের প্রজনন ধ্বংস করে দিচ্ছে। সাগর থেকে ড্রেজিং’র মাধ্যমে বালু উত্তোলনও অন্যতম কারণ হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, ‘এখন ভরা মৌসুম হলেও বঙ্গোপসাগরের মিরসরাই-সন্দ্বীপ চ্যানেলে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। এরপরও আশা রাখছি আগামী পূর্ণিমার সময় হয়ত এই আকালের কিছুটা অবসান হবে।’
মিরসরাই উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা নাসিম আল মাহমুদ বলেন, ‘৬৫ দিন নিষেধাজ্ঞা শেষে দেশের বিভিন্ন স্থানে জেলেরা প্রচুর পরিমাণ ইলিশ মাছ ধরছেন। অনেকটা নিষেধাজ্ঞার সুফল বলা যায়। কিন্তু মিরসরাইয়ের ক্ষেত্রে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। এখানকার জেলেরা সাগরে গিয়ে ইলিশ পাচ্ছে না।’
প্রবা/ইউরি/