গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৫২ পিএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ২২:২৭ পিএম
মরদেহ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। প্রবা ফটো
কারারক্ষীদের
জিম্মি করে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারের ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে গেছেন।
এ সময় কারারক্ষীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন ছয়জন। গত মঙ্গলবার সকাল থেকে কারাগারের বন্দিরা
কারারক্ষীদের জিম্মি করে বিক্ষোভ শুরু করেন। মঙ্গলবার রাতে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে
মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর থেকে কাশিমপুর কারাগার সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।
পালিয়ে যাওয়া
ও মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের সুপার সুব্রত
কুমার বালা। নিহতরা হলেনÑ হলি আর্টিজান মামলার আসামি নরসিংদীর নলভাটা এলাকার জাকির
হোসেনের ছেলে মো. জিন্নাহ (২৮) ও নওগাঁর কাঞ্চনপুর এলাকার আ. সালামের ছেলে আসলাম হোসেন
মোহন, হত্যা মামলার আসামি মৌলভীবাজারের রামেশ্বপুর মকবুল মিয়ার ছেলে ইমতিয়াজ পাভেল
(২৪), ছিনতাই মামলার আসামি টাঙ্গাইলের তারাটিয়া এলাকার রাজ্জাক শেখের ছেলে স্বপন শেখ
(৪০), মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আফজাল হোসেন (৬৩) ও সিতারাম হরিজনের ছেলে রাধেশ্যাম
হরিজন।
কারা সূত্রে জানা
গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে কারাগারে থাকা জঙ্গি ও দুর্ধর্ষ বন্দিরা মুক্তির দাবিতে
বিক্ষোভ ও বিদ্রোহ শুরু করেন। এ সময় কিছু বন্দি কারারক্ষীদের জিম্মি করেন। বিশৃঙ্খলা
ছড়িয়ে পড়ে কারাগারের ভেতরে। মই দিয়ে, ওয়াল টপকে যে যেভাবে পারেন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা
করেন। এ সময় কারারক্ষীরা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে কারারক্ষীরা নিরাপত্তার
স্বার্থে গুলি ছোড়েন। গুলিতে ছয় বন্দি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ২০৯ জন বন্দি পালিয়ে যান।
পরে সেনাবাহিনীকে খবর দেওয়া হলে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে সেনাবাহিনীর কয়েকটি টিম কারাগারে
পৌঁছয়। নিহতদের লাশ মঙ্গলবার রাতে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি
কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, পালানোর সময় গুলিতে ছয়জন মারা গেছেন।
এ ছাড়া দেয়াল টপকে, দাঙ্গা করে বেরিয়ে গেছেন ২০৯ জন বন্দি। এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে,
পরিবেশ স্বাভাবিক আছে।
হাসপাতালে গিয়ে
দেখা যায়, জরুরি বিভাগে লাশগুলো মেঝেতে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। লাশগুলো থেকে গন্ধ
বের হচ্ছে। বাইরে স্বজনরা আহাজারি করছেন। কেউ কেউ নিজেদের জিম্মায় মরদেহ নিয়ে যাচ্ছেন।
শহীদ তাজউদ্দীন
আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মোস্তাক আহমেদ বলেন, নাম-ঠিকানা রেখে
স্বজনদের অনুরোধে লাশগুলো দিয়ে দেওয়া হচ্ছে।