রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:২৯ পিএম
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৫৯ পিএম
দেশের কয়েকটি জায়গায় মন্দিরে হামলার খবরে রাজশাহীতে সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সুরক্ষা এবং তাদের উপাসনালয় রক্ষায় নিজেদের উদ্যোগে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছেন স্থানীয় আন্দোলনকারী যুবক ও তরুণরা। গতকাল মঙ্গলবার রাতে নিরাপত্তা দিতে দেখা গেছে স্থানীয় মুসলিমদের।
স্থানীয় সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তাদের উপাসনলায়সহ বাড়ি-ঘরে হামলা ও লুটপাটের আশংকা করছেন। এমন অবস্থায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে একদল স্থানীয় মুসলিম যুবক। মন্দিরে বসে পাহারা দিতে দেখা গেছে তাদের।
রাজশাহী নগরীর আলুপট্টি সংলগ্ন নদীর ধারে অবস্থিত গঙ্গা মন্দীরের পুরোহিত সুমন ঠাকুর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোথাও পুলিশ নাই। আন্দোলনকারীরাই আমাদের মন্দিরের সুরক্ষা দিচ্ছে। তারা পালা করে এসে আমাদের মন্দিরে অবস্থান করছেন। তাদের কারণে আমরা অনেকটাই নিরাপদ অনুভব করছি।
রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা ওসমান গনী বলেন, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার করার পর রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, পুলিশ হেডকোয়াটারসহ বিভিন্ন থানা লুটপাট করে আগুন দেওয়া হয়েছে। কোথাও আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দেখা নেই। এমন অবস্থায় চরম শঙ্কা ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছে সাধারণ মানুষ।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সারাদেশে ছাত্র-জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। তবে এর মধ্যেও নানা সহিংসতা হয়। বিভিন্ন থানা-পুলিশ, নানা স্থাপনা, আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি-ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু জায়গায় মন্দিরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
রাজশাহীর চিত্র
সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর রাজশাহীর একাধিক থানায় হামলা ও লুটপাট চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের হেডকোয়াটারের প্রতিটি দপ্তরে সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত লুটপাট চালানো হয়। অটো ও রিকশা নিয়ে এসে দপ্তরের কম্পিউটার, এসি, ফাইল, টেবিলসহ মূল্যনাস সব সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় সাইবার ক্রাউম ইউনিট ও নগরীর সিসি ক্যামেরা পর্যবেক্ষণের কক্ষ। থানাগুলোতে আক্রমণ করে লুট করে নেওয়া হয়েছে অধিকাংশ অস্ত্র। নগরীর কোথাও কোনো পোশকধারী পুলিশের দেখা মেলেনি।
এছাড়াও সিএনবি মোড়, লক্ষ্মীপুর মোড়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী কলেজসহ যেসব স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছবি বা ম্যুরাল রয়েছে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নয়তো ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।
এদিকে প্রকাশ্যে এমন লুটতরাজ দেখে সাধারণ নগরবাসী আতংকে রয়েছেন। তারা আশঙ্কায় রয়েছেন- যখন তখন বাসাবাড়িতেও লুটতরাজ শুরু হতে পারে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী বরেন্দ্র জাদুঘরে লুটের চেষ্টা চালানো হয়। তবে স্থানীয়দের সহযোগীতায় তা বিফল হয়। পরে সেনাসদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে দাঁড়ায়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কারাগারের নিরাপত্তায় রয়েছে সেনাবাহিনী। তবে রাজশাহীতে কোনো মন্দিরে হামলার ঘটনা ঘটেনি।
এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপির নেতৃত্বে সকল সরকারি স্থাপনা, সকল প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছাত্রজনতাকে নিয়ে পাহাড়া দিবে। কেউ যাতে অপচেষ্টার মধ্যেমে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এই বিজয়কে নষ্ট করতে না পারে। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু পরিবার ও তাদের উপাসনালয়ে স্থানীয়দের নিয়ে পাহাড়া দিবে বিএনপি।