চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২১:০৬ পিএম
আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ২১:২৭ পিএম
ফাইল ছবি।
চট্টগ্রামের ভোগ্য পণ্যের অন্যতম বাজার খাতুনগঞ্জে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ১৫০ থেকে ২০০ টন পেঁয়াজ বেচা-কেনা হয়। গত এক সপ্তাহে সেটি নেমে এসেছে ৭০ থেকে ৮০ টনে। ক্রেতাদের চাহিদা কমে যাওয়ায় আড়তগুলোতে বেড়েছে পেঁয়াজের মজুত, কমতে শুরু করেছে দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি পেঁয়াজে অন্তত পাঁচ টাকা দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন আড়তদাররা।
পাইকারি বাজারে এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৪১ থেকে ৪২ টাকায়। শনিবার (১৯ নভেম্বর) প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩৪-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
চাহিদা কমে যাওয়ায় পেঁয়াজের দাম কমছে বলে জানিয়েছেন খাতুনগঞ্জের ভাই ভাই বাণিজ্যালয়ের মালিক দোলন দাস। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘পেঁয়াজের বেচা-কেনা একেবারেই কমে গেছে। আগে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ টন পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারতাম। গত কয়েকদিন ধরে এর অর্ধেকও বেচা-কেনা নেই। চাহিদা কম থাকায় এখন পেঁয়াজের দামও নিম্নমুখী। ৪১ টাকা দরে কেনা পেঁয়াজ এখন বিক্রি করছি ৩৪ থেকে ৩৫ টাকায়।’
বেশি দামে কিনে কম দামে কেন বিক্রি করছেন- জানতে চাইলে দোলন দাস বলেন, ‘ক্রেতা না থাকায় আড়তে থাকা পেঁয়াজগুলোর মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পেঁয়াজ তো পচনশীল, তাই বেশি দিন মজুত করে রাখা যায় না। মজুত করে রাখলে অনেক বেশি লোকসানে পড়ব। তাই কম দামে বিক্রি করছি।’
খাতুনগঞ্জে সরেজমিনে দেখা গেছে, আড়তগুলোতে প্রচুর পেঁয়াজ মজুত করে রাখা হয়েছে। ভারতের নাসিক জাতের পেঁয়াজ বাজারে সবেচেয়ে বেশি। মানভেদে ৩২ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পেঁয়াজ। যেসব পেঁয়াজের রং কিছুটা বিবর্ণ হয়েছে, সেগুলো কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩২ টাকায়। যেগুলোর মান এর চেয়ে একটু ভালো সেগুলো বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৩ টাকায়। সবচেয়ে ভালো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৩৬ টাকায়।
এদিকে চাহিদা কমার সঙ্গে পেঁয়াজের আমদানিও কমেছে। আড়তদাররা বলছেন, আগে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি গাড়িতে (প্রতি গাড়িতে ১৩ টন) পেঁয়াজ আসত। এখন আসছে ১০ থেকে ১২টি গাড়ি। এই ১০-১২ গাড়িতে পেঁয়াজও প্রতিদিন বিক্রি হচ্ছে না।
এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছেন, বাজারে সেই পরিমাণ ক্রেতা নেই। প্রতিদিনই পেঁয়াজ থেকে যাচ্ছে। বেচা-কেনা কমে যাওয়ার কারণেই বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।’
চাহিদা কমছে কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গত মাসে ঘুর্ণিঝড় সিত্রাংয়ের প্রভাবে খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোতে পানি ঢুকে অনেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়। ওই পেঁয়াজগুলো কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। তখন যারা পেঁয়াজ কিনেছেন, তাদের বাসায় এখনও পেঁয়াজ আছে। অন্যদিকে নতুন পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে বাজারে। পাশাপাশি শীতকালে অনেকেই পেঁয়াজের পরিবর্তে ধনিয়াপাতা ব্যবহার করেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এসব কারণেই বাজারে এখন পেঁয়াজের চাহিদা কমছে।’