কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৪ ২২:২২ পিএম
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪ ২৩:৩১ পিএম
কুষ্টিয়ায় মাহবুব-উল আলম হানিফের বাড়িতে হামলা। ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর করেছে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। রবিবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পিটিআই রোডের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সেখানে গেলে বিক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ঘটে। এসময় পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। হামলার সময় ওই বাড়িতে কারা অবস্থান করছিল তা বিস্তারিত জানা যায়নি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আন্দোলনকারীরা হানিফের আলিশান বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। এসময় আওয়ামী লীগের সিনিয়র এই নেতার বাড়ি এবং টং ঘর ভেঙে ফেলা হয়।
পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হামলার সময় ওই বাড়িতে কারা অবস্থান করছিল তা বিস্তারিত জানা যায়নি। সন্ধ্যা ৬টার দিকে আন্দোলনকারীরা হানিফের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করে। বাড়ির সামনের কাচ এবং টংঘর ভেঙে ফেলেছে বলে জানা যায়। তবে অগ্নিসংযোগে তেমন ক্ষতি হয়নি বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে আন্দোলনকারীরা সেখান থেকে সরে যায়।
এদিকে, আজ পুরো দিনজুড়েই কুষ্টিয়ায় একদফা দাবির অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জেলা আওয়ামী লীগের অফিস, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ট্রাফিক অফিস ভাঙচুর করেছে। এ সময় আন্দোলনকারী ও পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুপুর ১টার থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত শহরের মজমপুর, থানার মোড়, ছয় রাস্তার মোড়, ৫ রাস্তার মোড়, জেলা স্কুলের সামনে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটছে।
এসময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। কুষ্টিয়া শহরের এসব এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতরা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছেন।
এর আগে আন্দোলনকারীরা কুষ্টিয়া ট্রাফিক অফিস ভাঙচুর, জেলা আওয়ামী লীগের অফিস ভাঙচুর, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন এবং সড়কের বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশের ধাওয়া ও রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে আশ্রয় নেন।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের মজমপুর থেকে শুরু হয়ে চৌড়হাস মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ পালিত হয়। সেখান থেকে তারা আবারও মজমপুরে আসেন। এরপর তারা এনএস রোডে যান। তাদের পাশাপাশি বিক্ষোভে অনেক অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের যোগ দিতে দেখা গেছে। এ সময় মিছিল-স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে কুষ্টিয়া শহর।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসে আহত হয়ে অসংখ্য রোগী হাসপাতালে এসেছে, এখনো কিছুক্ষণ পরপর রোগী আসছে। বেশিরভাগ রোগীর রাবার বুলেটে আহত। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কেউই আশঙ্কাজনক নয়।’
কুষ্টিয়া পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, সারা দিন আন্দোলনকারীদের হামলা প্রতিহত করতে পুলিশ ব্যাপক কাজ করেছে। শেষের দিকে সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করে সংসদ সদস্যের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। দুই-তিন মিনিটের মধ্যেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়। কাদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে।
এদিকে সোয়া ৭টার দিকে বাড়িতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিরা গিয়ে আগুন নেভায়। সেখানে উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আবু তৈয়ব বাদশা কয়েকজন কর্মী নিয়ে থাকতে দেখা যায়।