অসহযোগ আন্দোলন
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৪ ১৩:১১ পিএম
আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৪ ১৫:২৬ পিএম
রবিবার রংপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ হয়। প্রবা ফটো
রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অসহযোগ আন্দোলন কর্মসূচীতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে একজন আওয়ামী লীগ নেতাসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়েছেন। এসময় রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৪ আগস্ট) বেলা ১২টায় নগরীর ভাঙ্গা মসজিদ এলাকায় এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারাধন হারা। বাকি তিনজনের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
এর আগে সকাল ১০টা থেকে রংপুর টাউন হলের সামনে সড়কে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। এক ঘন্টার মধ্যে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থী সেখানে জমায়েত হয়ে সরকারের পতনে এক দফা দাবিতে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করে অনেক অভিভাবকও আন্দোলনে যোগ দেন।
বেলা ১২টার দিকে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে ভাঙ্গা মসজিদের সামনে এগিয়ে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু যায়। আধাঘণ্টা ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ চলে। এতে আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে থাকা হেলমেট পরিহিত একজনকে পিস্তল বের করে গুলি করতে দেখা যায়। পরে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পিছু হটতে হয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। এসময় সিটি কর্পোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হারাধন হারাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
শিক্ষার্থী মৌমিতা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের এখন আলোচনায় বসতে বলতেছেন। তার বাবা তো আলোচনায় বসেননি। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমার ভাইয়ের লাশের ওপর দিয়ে আলোচনায় বসতে পারব না। তাই আর কোন আলোচনা নয়, বর্তমান সরকারের পদত্যাগ চাই।’
শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী, বিজিবির ওপর ভর করে ক্ষমতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে। আমি প্রশাসনের ভাইদের বলব আপনার নিরপেক্ষ থাকেন। কারণ যারা আন্দোলনে রয়েছে তারা আপনার ভাই-বোন। তাদের ওপর গুলি করবেন না।’
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে আমরাই অনেকটা অবরুদ্ধ রয়েছি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।