হবিগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ২১:৩৭ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪ ২৩:১৫ পিএম
শুক্রবার হবিগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। প্রবা ফটো
হবিগঞ্জে পুলিশ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক বিদ্যুৎ শ্রমিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে শতাধিক মানুষ। এ সময় আওয়ামী লীগ কার্যালয়, বিএনপি কার্যালয় ও স্থানীয় এমপির বাসার সামনে থাকা গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হবিগঞ্জ শহরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির নাম মোস্তাক মিয়া (২৪)। তিনি পেশায় শ্রমিক। মোস্তাকের সঙ্গে কাজ করেন মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘মোস্তাক এখানে জুতা কিনতে এসেছিল। এসে সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে যায়। গুলিতে তার মৃত্যু হয়েছে।’ সংঘর্ষে আহতরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিলে পূর্ব টাউনহল এলাকায় অবস্থান নেন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মিছিলে যোগ দিয়ে সংহতি প্রকাশ করেন জেলা ছাত্রদল ও অন্য দলের নেতাকর্মীরা।
মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় টাউন হল এলাকায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ শুরু হয়।
এ সময় টাউনহল রোডে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মো. আবু জাহিরের বাসভবনে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তার বাড়ির সামনে থাকা চারটি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় শহরের টাউনহল রোড, চানমিয়া মসজিদ সড়ক, পুরাতন হাসপাতাল কোয়ার্টার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বিকাল ৫টার দিকে জেলা আওয়ালী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিম ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাচ্ছিরুল ইসলামের নেতৃত্বে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সিনেমা হল এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় সিনেমা হল এলাকায় বিএনপির একাংশের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।
সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান জানান, সংঘর্ষ থামাতে টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ব্যবহার করা হয়েছে, এ মুহূর্তে তিনি সঠিক তথ্য দিতে পারবেন না। এ ঘটনায় একজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।