খুলনা অফিস
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪ ২২:২৩ পিএম
খুলনায় গণমিছিলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের তৃতীয় দফায় সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। প্রবা ফটো
খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে সুমন নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। আরও ৩০ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছে ৫৫ জন।
শুক্রবার (২ আগস্ট) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দিলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
রাত পৌনে ৯টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (কেএমপি) মো. মোজাম্মেল হক প্রতিদিনের বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম দফা সংঘর্ষ
শুক্রবার দুপুর ২টায় খুলনা নিউ মার্কেট এলাকা থেকে বৃষ্টি ও পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে গল্লামারী মোড়ে পৌঁছায়। বিকাল ৩টা ১৫ মিনিটে বিশাল মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা গল্লামারী পৌঁছালে জিরোপয়েন্টের দিক থেকে পুলিশ মিছিল লক্ষ্য করে টিয়ার শেল ছুড়ে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয়দের যোগ দিতে দেখা যায়। পরে বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারী মিছিল নিয়ে এগিয়ে গেলে পুলিশ ধীরে ধীরে পিছু হটে যায়। পরে তারা জিরোপয়েন্টে অবস্থান নেয়।
দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জিরোপয়েন্টে অবস্থান নেওয়ার পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে সরে যেতে বলে। এর ফলে বিকাল ৪টার দিকে দ্বিতীয় দফায় ফের সংঘর্ষ শুরু হয়। শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে পুলিশ একের পর এক টিয়াল শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হয়।
তৃতীয় দফা সংঘর্ষ
শুক্রবার বিকাল পৌনে ৬টার দিকে জিরোপয়েন্টে সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিববাড়ি মোড়ের দিকে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর ও একটি গাড়িতে আগুন দিলে তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুড়ে। এতে পুরো গল্লামারী এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুইপক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে ৩০ জন পুলিশ সদস্যসহ ৫৫ জন আহত হয়েছে।
কেএমপি মো. মোজাম্মেল হক বলেন, ‘সংঘর্ষে আমাদের ৩০ জন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে এবং পুলিশ লাইনসের কনস্টেবল মো. সুমন নিহত হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। অথচ আমার এক ভাইকে পিটিয়ে মেরে ফেলল ওরা।’