× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা, চেয়ারম্যানের শটগান হাতে গাড়ি চালক

লক্ষ্মীপুর প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:২২ পিএম

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৪ ২০:০৪ পিএম

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে (লাল চিহ্নিত সবুজ গেঞ্জি পরা) শটগান হাতে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন টিপুর গাড়ি চালক।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে (লাল চিহ্নিত সবুজ গেঞ্জি পরা) শটগান হাতে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন টিপুর গাড়ি চালক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল কর্মসূচিতে লক্ষ্মীপুরের সদরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালীন শিক্ষার্থীরা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পিটুনির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (২ আগস্ট) জুমার নামাজের পর এসব ঘটনায় দশ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে- সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও চকবাজার জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি একেএম সালাহউদ্দিন টিপুর উস্কানিমূলক আচরণেই এমনটি ঘটেছে। শান্ত লক্ষ্মীপুরকে অশান্ত করার পাঁয়তারা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী চকবাজার জামে মসজিদের মুসল্লি ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা গণমিছিল কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ জুমার নামাজের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন। এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের নিয়ে চকবাজার জামে মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন টিপু। নামাজ শেষেই তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে বের হয়ে মুসল্লিদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করে দ্রুত বাসায় যাওয়ার জন্য বলেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও মারমুখী ছিলেন। তারা মসজিদের সামনে থেকে বাজারের বিভিন্ন সড়কে স্লোগান দিয়ে সাধারণ মুসল্লি ও শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন। পরে মিছিল নিয়ে তমিজ মার্কেট এলাকায় টিপুর বাসায় অবস্থান নেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হাসান মোস্তফা স্বপনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের নিরাপদে রাখতে সেখানে অবস্থান নেয়।

এদিকে নেতাকর্মীদের মিছিল শেষেই কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা বাজার ব্রিজ থেকে মিছিল নিয়ে বের হয়। মিছিলটি চকবাজার মসজিদের সামনে গেলেই শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে শুরু করেন। উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসার সামনে গেলে মিছিল থেকে নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে কয়েকটি ইটপাটকেল ছোড়া হয়। এতে পুলিশের বাধা ভেঙে লাঠিসোঁটা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া দেন আওয়ামী লীগসহ ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীরা। তারাও শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় সাত-আটজন শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা দিয়ে বেদম পেটান তারা। এতে দশজন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইটপাটকেলে ছাত্রলীগের দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

তাৎক্ষণিক আহত শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) হাসান মোস্তফা স্বপন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে। লক্ষ্মীপুরকে সুন্দরভাবে নিয়ন্ত্রণে রেখেছি।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এবি ছিদ্দিক বলেন, ‘লক্ষ্মীপুর শান্ত ছিল। সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। চেয়ারম্যানের উস্কানিতেই ঘটনাটি ঘটেছে। উনি নেতাকর্মীদের নিয়ে এখানে অবস্থান না নিলে ইট মারার পরিস্থিতি হতো না। আমাদের উপস্থিতিতে তারা এখানে অবস্থান নেবে কেন?’

এদিকে গণমিছিলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সালাহউদ্দিন টিপুর গাড়ি চালককে শটগান হাতে ধাওয়া দিতে দেখা গেছে। ঘটনার সময়কার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জানিয়েছেন- শটগানটি চেয়ারম্যান টিপুর নামে লাইসেন্স করা।

অস্ত্র হাতে ধাওয়ার বিষয়ে জানতে গাড়ি চালক রাসেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

টিপু জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি। ২০২১ সালের অক্টোবরে যুবলীগের কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুর জেলায় নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এতে যুবলীগের বিভিন্ন ইউনিটের দায়িত্বে এখনো তার অনুসারীরা রয়েছেন।

জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন টিপু বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে মাঠে থাকলেও দোষ, না থাকলেও দোষ। স্থানীয় প্রশাসনের অনুরোধে আমরা মাঠে ছিলাম।’ এ কথা বলেই ফোনের লাইন কেটে দেন তিনি। পরে তার গাড়ি চালকের অস্ত্র হাতে শিক্ষার্থীদের ধাওয়ার বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াছিন ফারুক মজুমদার বলেন, ‘ঘটনার সময় অস্ত্রহাতে কাউকে চোখে পড়েনি। এখন ফেসবুকে দেখছি। তার নাম-পরিচয় জানা নেই। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা