বরগুনা সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:১৯ পিএম
ঘাটে নৌকা বাধা। প্রবা ফটো
জেলেদের আশা ছিল বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাবে। কিন্তু ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা গত ২৩ জুলাই মধ্যরাতে শেষ হলেও নদ-নদী ও সাগরে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলেরা হতাশ। এখন বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে জেলেরা ফিরছেন মলিন মুখে।
নিম্নচাপ হওয়ায় সাগর উত্তাল হয়ে পড়েছে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটার বিএফডিসি মৎস্যঘাটের কয়েক শতাধিক জেলে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ট্রলার মালিক-জেলেরা। বড় ধরনের লোকসানের সম্ভাবনা দেখছেন তারা। জেলেরা জানান, সাগরে উত্তাল ঢেউ থাকার কারণে নিরাপদ স্থানে ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেদের কিছুটা উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকলেও ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এখন মাছ ধরে নিজেদেরও চলতে হবে, ঋণও পরিশোধ করতে হবে। এবার অনেক আশায় নিয়ে সাগরে নেমেছিলেন। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। গত কয়েক দিনে যে মাছ পেয়েছেন তাতে খরচই পোষাবে না। গত বছরও আশানুরূপ ইলিশ পাওয়া যায়নি।
এফবি আরিয়ান ট্রলারের মাঝি মো. আলতাফ হোসেন জানান, দুই দিন আগে ১৫ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারের জন্য যান। কিন্তু সাগরে উত্তাল ঢেউ থাকার কারণে নিদ্রা-ছকিনা নামক স্থানে নোঙর করে আছেন। দীর্ঘদিন সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এখন সাগরে যদি মাছ পান, তবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারবেন।
ট্রলার মালিক মো. রসুল মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর আড়তদারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে বাজার করে সাগরে মাছ শিকারে জন্য পাঠিয়েছি। কিন্তু সাগর উত্তাল থাকায় খালি হাতেই ফিরে আসতে হবে। ঘাটে ফিরে এসেছেন নুর আলম মাতুব্বর নামে এক মাঝি। তিনি জানান, বরফ, তেল ও বাজারসহ প্রায় তিন লাখ টাকার রসদ নিয়ে গত ২৬ জুলাই সমুদ্রে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন। প্রথমে ঝড়ের খবর পেয়েও লোকসান বিবেচনায় সমুদ্রে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরে সাগর উত্তাল হওয়ায় জীবনের মায়ায় এবং ট্রলার মালিকের জাল-দড়ির কথা ভেবে তীরে ফিরেছেন। যত দিন আবহাওয়া অনুকূলে না আসবে, তত দিন উপকূলেই থাকতে হবে।
আবুল হোসেন ফরাজী জানান, তার তিনটি ট্রলার সাগরে রয়েছে। এসব ট্রলারের প্রায় প্রতিটিতে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার রসদ রয়েছে। একদিকে ডিজেল ও মুদি মালামালের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ট্রলার সাগরে গিয়ে মাছ ছাড়াই ফিরে আসছে। সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া প্রত্যেক জেলের পেছনে অনেক খরচ হয়। নিষেধাজ্ঞা শেষে ট্রলার নিয়ে সাগরে যাওয়ার পর থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন আড়তদারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়েছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সে টাকা শোধ করবেন কীভাবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে। এমন চলতে থাকলে ধীরে ধীরে পেশা বদলে ফেলতে পারেন অনেকে।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ধারদেনা করে সাগরে মাছ শিকারে গিয়েছিলেন জেলেরা। বৈরী আবহাওয়ার কারণে দুই শতাধিক ট্রলার নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা হচ্ছিল, জেলেরা প্রচুর ইলিশ নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ট্রলারের মালিক ও জেলেদের। জেলেদের সর্বাধিক সহযোগিতা ও সার্বিক বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে। জেলেরা সমুদ্রে আশানুরূপ মাছ পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা-দৈন্য কাটিয়ে উঠতে পারবেন।