× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খাল দখলে বাড়ছে ক্ষতি

সাইদুর রহমান আসাদ, সুনামগঞ্জ

প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৪ ১৭:১৩ পিএম

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে সুরমা নদীর উৎসমুখে বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার তোলা। প্রবা ফটো

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামে সুরমা নদীর উৎসমুখে বাঁধ দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। সোমবার তোলা। প্রবা ফটো

বর্ষা মৌসুমে তিনবার বন্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে সুনামগঞ্জবাসীকে। এতে মানুষের ঘরবাড়িসহ অনেক গ্রামীণ সড়কের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নদী থেকে হাওরে পানি নিষ্কাশনের খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে প্রতি বছর ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধারে কাজ করছেন তারা।

এবার বর্ষা মৌসুমের পানি হাওরে প্রবেশ করেছে দেরিতে। অনেক গ্রামীণ সড়ক ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে দ্রুত সুরমা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। আবার সুরমা নদীর পানি কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ঝাওয়া ও দেখার হাওরের তীরবর্তী এলাকায় জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন বাসিন্দারা। 

নদী থেকে হাওরে পানি নিষ্কাশনের খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। কয়েক বছর আগেও নদীতে পানি এলে যে খালগুলো দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করেছে, সেগুলো দখল হয়ে ভরাট হয়ে গেছে। কোথাও সংকুচিত হয়েছে। এ কারণে চলতি বছর বর্ষার শুরুতে নদীতে পানি বিপদসীমার ওপরে বইলেও হাওরে পরিপূর্ণ পানি দেখা যায়নি। এতে নদী তীরবর্তী গ্রামগুলো প্রথম প্লাবিত হয়েছে। পরে অনেক গ্রামীণ সড়ক ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করতে দেখা গেছে।

জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইিডি) তথ্যমতে, গ্রামীণ সড়কের ৫৯৪ কিলোমিটার তিন দফায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই সড়কগুলোর কোথাও ওয়াশআউট হয়েছে। এছাড়াও ৮৮৬ মিটার ব্রিজের ক্ষতি হয়েছে। যা টাকার অঙ্কে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা গত মঙ্গলবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানান সুনামগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন।

এদিকে তিন দফা বন্যায় ঝাওয়ার হাওর তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন। নদীর পানি কমে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ঝাওয়ার হাওর থেকে পানি নেমেছে ধীরগতিতে। হাওর থেকে নদীতে পানি নিষ্কাশনের খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ভোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জুগিরগাঁও খাল, ধনপুর খাল, হাজারিগাঁও খাল, গড়ারগাঁও খাল, নোয়াগাঁও খাল, আমবাড়ী এলাকায়, আমআমি খাল, ব্রাহ্মণগাঁও বড়খাল, ছারাখালি খাল, গোদারগাঁও খাল, খাইমতর খালও কোনো কোনো অংশে সরু হয়েছে।

ঝাওয়ার হাওরপাড়ের মোল্লাপাড়া ও কুরবাননগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল হক ও বরকত আলী জানান, খালগুলো ভরাট করে ঘরবাড়ি হয়েছে। অনেক জায়গায় খালের অস্তিত্বই নেই। যে কারণে সুরমা নদীর পানি হাওরে যেতে পারে না। আর হাওরের পানি নদীতে প্রবেশ করতে পারে না। এতে সড়ক ও মানুষের ঘরবাড়ি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সম্প্রতি কুরবাননগর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের বড়খাল সরেজমিনে দেখা যায়, খালের সুরমা নদীর উৎসমুখে বাঁধ দিয়ে আরসিসি ঢালাই সড়ক নির্মিত হয়েছে। উৎসমুখ বন্ধ হওয়ায় পানিপ্রবাহ প্রায় হয় না বললেই চলে। এছাড়াও পুরো খালের মধ্যে কোথাও বাঁধ, কোথাও দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এই খাল দিয়ে একসময় বড় নৌকা চলাচল করেছে। সুরমা নদীর পানি ঝাওয়ার হাওরে চলাচল করেছে খাল দিয়ে। তবে পানির স্রোতে খালের দুই পাশের ঘরবাড়ির ক্ষতি হওয়ায় একসময় স্থানীয়রা বন্ধ করে দেন খালটি। এখন বর্ষায় খালের উৎসমুখ ভরাট অংশে পানির চাপ বেশি পড়ে। আশপাশের নদী-তীরবর্তী মানুষের ঘরবাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা মজম্মিল মিয়া বললেন, এই খাল দিয়ে সুরমা নদীর পানি পশ্চিমে মাইজবাড়ির দিক হয়ে দেখার হাওরে যেত। নদীতে পানি এলে খালে সাঁ সাঁ আওয়াজ তুলত স্রোত। নদী থেকে এই খাল দিয়ে গাছ ভাসিয়ে নিয়ে মাইজবাড়ি নৌকা বানাতে গেছি। এখন খালের মুখ ভরাট করা হয়েছে। 

কুরবাননগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ার কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। পরে একসময় খালটি বন্ধ করা হয়। এখন খালের মুখের ওপর দিয়ে পাকা রাস্তা গেছে। বর্ষায় পানির ধাক্কা প্রথম এই সড়কে দেয়। এজন্য সড়ক ও গ্রাম রক্ষায় নদী তীরে গ্রাম প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণের দাবি করেন তিনি।

গোদারগাঁও গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। মৃত খালের ওপর অনেক ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এই খাল দিয়ে পানি ঢুকতে পারে না হাওরে। ছোটবেলায় দেখেছি খাল দিয়ে পানি হাওরে ঢুকত, হাওরের পানি নদীতে চলাচল করে ভারসাম্য বজায় থাকত। এখন এগুলো বন্ধ থাকায় নদীর পানি চলাচল সড়কের ওপর দিয়ে যায়। খালগুলো চিহ্নিত করে উদ্ধার ও দ্রুত খনন করা দরকার। 

একই গ্রামের বাসিন্দা মোসাদ্দর আলী বলেন, সব খাল ভরাট হয়ে গেছে। খালের ওপর বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। খালের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে। এইজন্য বর্ষাকালে বৃষ্টি হলে নদীর পানি বেড়ে এই পানি আশপাশের সড়ক ভাঙে। বাড়ি-ঘর ভেঙে হাওরে পানি যায়। এতে প্রতি বছরেই আমাদের ক্ষয়ক্ষতি হয়।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, খাল ও জলাশয় প্রকল্পের আওতায় জেলার প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে খাল খনন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ৫টি খাল খনন করার জন্য আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে তালিকা পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে খালগুলো খনন করার কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা