রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস
প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ২২:৫০ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ২৩:১২ পিএম
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) রাজধানীসহ দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে পুলিশের বাধা, ধস্তাধস্তি ও লাঠিচার্জের মতো ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের হস্তক্ষেপ ও বাধার কারণে শিক্ষার্থীদের মিছিল-সমাবেশ পণ্ড হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিক্ষোভ ও দেয়াল লিখনের অভিযোগে কয়েকটি স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আটক করা হয়েছে। গানে গানে ও বিক্ষোভ মিছিলসহ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকরা।
রাজধানীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও সাংস্কৃতিককর্মীদের প্রতিবাদ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু, সহিংসতা-গণগ্রেপ্তার-হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজধানীতে মিছিল ও বিক্ষোভ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনের বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক জানান, ছাত্র-জনতা নিহতের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক শেহরীন আমিনকে পুলিশের হামলার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে তিন দফা সমাবেশ করেছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় লোকপ্রশাসন বিভাগের উদ্যোগে একটি সমাবেশ হয়। এরপর অর্থনীতি বিভাগ সমাবেশ করে। সবার শেষে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক’ সমাবেশের ব্যানারে আরেকটি সমাবেশ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক। প্রতিকূল আবহাওয়ায় সবাই বৃষ্টিতে ভিজে কর্মসূচি পালন করেন। প্রথম দিকে শিক্ষকরা ছাতা নিয়ে দাঁড়ালেও এক শিক্ষক ‘শিক্ষার্থীদের রক্তের কাছে এ বৃষ্টি কিছুই না’ বক্তব্যের পর তারা ছাতা গুটিয়ে ফেলেন।
এরপর শিক্ষক শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে গিয়ে মিছিল শেষ করেন।
শিক্ষক নেটওয়ার্ক সমাবেশ থেকে পাঁচটি দাবি জানানো হয়। সেগুলো হচ্ছে, গ্রেপ্তারকৃত সবাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে, কারফিউ প্রত্যাহার করা, সব ধরনের হয়রানি ব্লকেড দিয়ে ছাত্রদের গ্রেপ্তার করা এবং অন্যান্য যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সেটা বন্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনা, এ পর্যন্ত যত হত্যাকাণ্ড হয়েছে সবার পরিচয় শনাক্ত করে এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সহকারে বিচার নিশ্চিত করা।
নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক সমাবেশের কর্মসূচিতে আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার এ সরকার করবে না, কারণ সরকার নিজেই খুনি। খুনি খুনির বিচার করবে না।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ছাত্রদের অনিরাপদ রেখে আমরা শান্তিতে বসে থাকব না। বাংলাদেশের বুকে গুলি করা হয়েছে। তরুণ হচ্ছে বাংলাদেশের হৃদয় এই হৃদয়কে আঘাত করা হবে আমরা চুপচাপ মেনে নিব এটা যেন সরকার না ভাবে।
আসিফ নজরুল বলেন, চোখের সামনে দেখলাম পুলিশের ইউনিফর্ম পরে গুলি করা হচ্ছে, ভিডিও দেখলাম আবু সাঈদকে কীভাবে গুলি করা হচ্ছে। যুবলীগ ছাত্রলীগের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। অথচ আমাদের ছাত্ররা নাকি মারা গেছে সন্ত্রাসীদের গুলিতে। বলা হচ্ছে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা গেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান বলেন, গত ১৪ বছরে শাসনামলে উন্নয়ন চেতনার খোলস দিয়ে মিথ্যার ঢিবি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো ভেঙে পড়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলনের বিকাশ ঘটিয়েছিল সেটা সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে।
পপুলেশনস সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, আজকে পুলিশ আমার শিক্ষার্থীর মুখ চেপে ধরেছে। কথা বলতে দিচ্ছে না। এই বাংলাদেশ কি আমরা দেখতে চেয়েছি। আমরা মানবাধিকারের কথা বলি, উন্নয়নের কথা বলিÑ অথচ প্রতিনিয়ত আমাদের মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে। আমাদের সহকর্মীর ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেন, একটা শিক্ষার্থীকে জেলে রেখে পাবলিক পরীক্ষা হতে পারে না, ছাত্র জেলে রেখে কোনো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। আগে সকল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। বাড়ি গিয়ে, রাস্তা থেকে, মোবাইল চেক করে গণগ্রেপ্তার করা বন্ধ করতে হবে। এগুলো বন্ধ না হলে কোনো পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে পারে না।
কর্মসূচিগুলোতে আরও বক্তব্য দেন লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক নাজনীন ইসলাম, অধ্যাপক ফেরদৌস আরফিনা ওসমান, অধ্যাপক সাদিক হাসান, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক সেলিম রায়হান, অর্থনীতি বিভাগের প্রধান মাসুদা ইয়াসমীন, ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন আহমেদ, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বায়েজিদ ইসলাম কিশোর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশরেফা অদিতি হক।
চার দফা দাবি ঢাবি নীল দলের
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দল। বৃহস্পতিবার বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে ‘দেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এই দাবি জানান সংগঠনটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূঁইয়া, চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুর রহিম, বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল বাছির, টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিউল আলম ভূঁইয়া প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এম আমজাদ আলী বলেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে যেকোনো নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার। শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার সম্পর্কিত যৌক্তিক দাবিসমূহের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নীলদল বরাবরই ইতিবাচক অবস্থানে থেকেছে। এই আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কেউ কেউ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও রাজপথে স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান উচ্চারণ করেছে, যা নিন্দনীয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাবিতে প্রতিবাদী গানের মিছিল
প্রতিবাদী গানের মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এতে সংহতি জানিয়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ১২ শিক্ষক অংশ নেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে প্রতিবাদী গানের মিছিলটি বের হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে পুরোনো ফজিলাতুন্নেসা হলসংলগ্ন নবনির্মিত ছাত্র-জনতা শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে গিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। সেখান থেকে মিছিলটি একই পথে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এছাড়া একই দাবিতে একই স্থানে ‘পারফরমেন্স আর্ট’ পরিবেশন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এবং নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাবি শাখার সমন্বয়ক আরিফ সোহেল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষার্থী লিয়নসহ গ্রেপ্তারকৃত সকল শিক্ষার্থীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়। এছাড়া বক্তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
রাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাদা পোশাকে পুলিশের ধস্তাধস্তি
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক নেটওয়ার্কের মৌন মিছিল শেষে ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের তুলে নিয়ে যেতে চাইলে সাদা পোশাকের পুলিশের সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে জড়ো হোন শিক্ষকরা। খবর পেয়ে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হয়। পরে মুখে লাল কাপড় বেঁধে মৌন মিছিল বের করেন শিক্ষকরা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে এসেই মৌন মিছিল শেষ হয়। মিছিল শেষে শিক্ষাথীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করার সময় সাদা পোশাকের পুলিশ কয়েকজন শিক্ষাথীকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের চিৎকারে শিক্ষকরা ছাত্রদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ছুটে যান। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের টানাহেঁচড়ায় তারা শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এদিকে গত বুধবার রাবির পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটক করে নগরীর দুই থানা-পুলিশ। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা থানায় যান। আটককৃতদের না ছাড়া পর্যন্ত যাবেন না বলে জানান। রাত ১টার দিকে নগরীর মতিহার থানা থেকে আটক তিন শিক্ষার্থীকে ছাড়াতে সক্ষম হন তারা। এছাড়াও রাবির প্রাক্তন শিক্ষার্থী রাশেদ রাজনকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে পরে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পাশাপাশি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে হয়রানি রোধে সহায়তা সেল গঠন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টরের সমন্বয়ে এ সেল গঠন করা হয়েছে। রাবির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
কোটাবিরোধী আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শহীদ মিনারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে রুয়েট শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে রুয়েটের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত শহীদ মিনারে তারা শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচি পালন করেন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়কসহ ১২ জন পুলিশ হেফাজতে
ছাত্র শিক্ষক সংহতি সভায় অংশগ্রহণ করতে আসার সময় বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক সুজয় শুভ, এম এইচ তমালসহ মোট ১২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক সংহতি সভায় অংশগ্রহণ করতে আসার সময় পথে তাদের আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ১২ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান, এয়ারপোর্ট থানার ওসি আব্দুর রহমান মুকুল। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে কমিটি না থাকলেও ছাত্রলীগের একটি অংশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়েছে। কেউ যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করতে পারে সে কারণে তাদের অবস্থান বলে জানান তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচে নাচে প্রতিবাদ
গায়ে কালো পোশাক, কোমরে বাঁধা লাল কাপ বেঁধে প্রতিবাদী নৃত্যে প্রতিবাদ জানিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু মঞ্চের সামনে প্রতিবাদী নৃত্য পরিবেশন করেন তারা। এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরা জাতীয় সংগীত, রণসংগীত, মৌন মিছিল, দেয়াল লিখনসহ কবিতা আবৃতি করে। এর আগে নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বঙ্গবন্ধু মঞ্চের সামনে এসে শেষ হয়।
রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মৌন মিছিল
আবু সাঈদসহ কোটা আন্দোলনে নিহতদের হত্যার বিচারে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত কমিশনের মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার বিকালে বিভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে মৌন মিছিল করেন শিক্ষকরা।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ বলেন, দেশের সকল ছাত্রের দাবি মেনে নিয়ে এই পরিস্থিতি থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। আমরা সকলে মিলে যেন সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়তে পারি।
অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, পুলিশের মামলায় দেখলাম তারা আবু সাঈদকে খুন করেছে, তারাই আবার তদন্ত করছে। আবু সাঈদ কীভাবে মারা গেল তা সারাবিশ্বের মানুষ দেখেছে কিন্তু দেশের পুলিশ দেখেনি। আমরা কার কাছে যাব, কার কাছে বিচার প্রত্যাশা করব।
কুবিতে শিক্ষকদের মানববন্ধনে বাধা
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মানববন্ধন করতে চাইলে ক্যাম্পাসে ঢুকতে তাদের বাধা দেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয়রা। ফলে ছয়জন শিক্ষকই দাঁড়াতে পেরেছেন এই মানববন্ধনে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী এম. আনিছুল ইসলামের সঞ্চালনায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রবেশে আটকে দেওয়ার ব্যাপারে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘কর্মসূচিটি সকাল ১১টায় করার কথা থাকলেও আমরা করতে পারিনি। আমাদের অনেক সহকর্মীকে আটকে দেওয়া হয়েছে কোটবাড়ী। তারা শিক্ষক পরিচয় দিয়েও তাদের কর্মস্থলে আসতে পারেননি। প্রক্টরকে জানানো হলেও আসতে দেওয়া হয়নি।
সদর দক্ষিণ থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, সরকারদলীয় লোকেরা শিক্ষকদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে বাধা দিচ্ছে এই ব্যাপারে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফোন দিয়েছিলেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তেমন কিছু দেখিনি।
এছাড়াও কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড মডেল কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতির কারণে তারা ফিরে যায়।
শাবির ফটক থেকে দুজন আটক
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকে কর্মসূচি পালনকালে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতদের পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি। তবে তারা শাবির শিক্ষার্থী নয় বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে দুজনকে আটক করা হয়।
তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ। তিনি জানান, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুপুরে শাবির ফটকে জড়ো হয়। পরে বেলা ৩টার দিকে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চাইলে আন্দোলনকারীরা সরে যেতে চায়নি। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল দুজনকে আটক করে।
কুড়িগ্রামে পুলিশি বাধায় পণ্ড প্রতিবাদ মিছিল
কুড়িগ্রামে পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়েছে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিল। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সমঝোতার পর রাজপথের কর্মসূচি থেকে পিছু হটেন আন্দোলনকারীরা। চার ঘণ্টাব্যাপী উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলে পুলিশ। আন্দোলনে ছাড়লেও পুলিশের গ্রেপ্তার, হয়রানি এবং ছাত্রলীগের চোরাগোপ্তা হামলা থেকে নিরাপত্তার শর্তে আন্দোলন থেকে পিছু হটে শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ মিছিলের আগে কুড়িগ্রাম সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেয়।
কুড়িগ্রাম অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমীন বলেন, কোনো পক্ষ যেন সহিংসতা সৃষ্টি করতে না পারে, আমরা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় আছি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত আছে।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে ইবি শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি
বৃষ্টি উপেক্ষা করে কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে তিনটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্যুঞ্জয়ী মুজিব ম্যুরালের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত এক ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক মখলেচুর রহমান সুইট বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ছাত্র হত্যার বিচার করতে হবে। এবং নয় দফা দাবি মেনে নিতে হবে। দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
গাইবান্ধায় শিক্ষার্থীদের মিছিল, সড়ক অবরোধ
৯ দফা দাবিতে গাইবান্ধায় বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র-ছাত্রীরা। বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে শহরের বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে মিছিল বের করে শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি পলাশ পাড়া মোড় হয়ে ডিসি অফিসের সামনে যায়। এরপর তারা বাস টার্মিনাল এলাকার আর রহমান তেলের পাম্পের সামনে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ, র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের চারপাশে ঘিরে রাখে। টানা দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিক্ষোভকারীরা শহরে প্রবেশ করার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বাধা দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটাদেওয়ার ঘটনা ঘটে।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, শহরের বাস টার্মিনাল এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একত্রিত হয়ে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করতে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
নোয়াখালীতে বৃষ্টিতে ভিজে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে নোয়াখালীতে কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী পথশিশুর জাতীয় পতাকা হাতে সবার আলাদা দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, আমাদের দাবির বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নতুন নতুন আরও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে পুলিশ কখনও বাধা দিবে না। পুলিশ সতর্ক অবস্থায় ছিল। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বগুড়ায় গান ও দেয়াল লিখনে নিহতদের স্মরণ
বগুড়ায় প্রতিবাদী গান, দেয়াল লিখন, চিত্রাঙ্কনের মধ্য দিয়ে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের উপশহর এলাকায় বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদী গান, দেয়াল লিখন, হাতে জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডের মাধ্যমে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করেন। কর্মসূচি ঘিরে পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়। সবশেষে শিক্ষার্থীরা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে হাকিড় মোড়ের দিকে মিছিল নিয়ে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয় এবং পরে তাদের মূল সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়ে স্নিগ্ধা আবাসিকের ১৩ নং রোডের একটি খেলার মাঠের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
বগুড়ার উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের কর্মসূচি পালন করেছে। রাস্তায় যানজট তৈরি হয়েছিল, তাই মিছিল মূল রাস্তা থেকে সরিয়ে ভেতরের রাস্তায় যেতে বলা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জে গ্রাফিতি-দেয়াল লিখন
কিশোরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘রিমেম্বারিং দ্য হিরোস’ কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তবে কিশোরগঞ্জে কোনো আন্দোলনকারীকে মাঠে দেখা যায়নি। তবে শহরের বেশ কয়েকটি স্থানে দেয়ালে দেয়ালে শোভা পাচ্ছে শিক্ষার্থীদের দেয়াল লিখন বা গ্রাফিতি এবং সংবাদপত্রে ছাপা পুলিশি নির্যাতনের ছবি সংবলিত পোস্টার।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, সারা দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যার প্রতিবাদে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, হরুয়া, আখরাবাজার, খরমপট্টি, কোর্ট এলাকা, আলোরমেলা, বটতলা, শোলাকিয়া, আজিমুদ্দিন স্কুলসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে গ্রাফিতি ও দেওয়াল লিখন করছেন শিক্ষার্থীরা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কিশোরগঞ্জের সমন্বয়ক ইকরাম হোসেন বলেন, নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে চিত্রাঙ্কন, গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরি, ডিজিটাল পোট্রের্ট তৈরি প্রভৃতি করছি আমরা।
ময়মনসিংহে বিক্ষোভ ও গানে প্রতিবাদ
ময়মনসিংহে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দেশাত্মবোধক গানে মুখরিত ছিল নগরীর টাউন হলের মোড়। বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় টাউন হলের মোড়ে একত্রিত হয়। এখানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। আর মাঝে মাঝে দেশাত্মবোধক গানে মুখরিত করে তোলে এলাকা। এ সময় শিক্ষার্থীরা লাল রঙের নানা আলপনা এঁকে নিহতদের স্মরণ করে। কর্মসূচি দুপুর ২টায় শেষ করা হয়। শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় টাউন হল মোড়ে বিপুল পরিমাণ পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন ছিল।
হবিগঞ্জে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ
হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনকারীরা টাউন হলের সামনে প্রধান সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে এসে অবস্থান নিলে তারা মিছিল নিয়ে পিছু হটে। দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রধান সড়ক অবরোধ করে রাখে আন্দোলনকারীরা। ফলে সড়কে চলাচলে যাত্রীসহ সাধারণ মানুষ পড়েন চরম দুর্ভোগে।
ভোলায় বৃষ্টিতে ভিজে মিছিল ও সমাবেশ
ভোলায় বৃষ্টির মধ্যে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ভোলার বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে থেকে বিভিন্ন কলেজের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি কালিনাথ রায়ের বাজার হয়ে বরিশাল দালান, চক বাজার, নতুন বাজার দিয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন ইলিশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। প্রায় ৩০ মিনিট সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান।
ভোলা মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান পাটওয়ারি জানান, শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করে বাড়ি ফিরে গেছে। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
রামগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের স্মরণ করে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে রামগঞ্জ বাইপাস সড়কের সিটি প্লাজার সামনে থেকে মিছিলটি আরম্ভ হয়ে রামগঞ্জ পুলিশ বক্সের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিভিন্ন স্লোগান ও সমাবেশ করে। রামগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, আন্দোলনকারীরা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালালে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাকেরগঞ্জে ছাত্রদের বিক্ষোভ মিছিল
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোটা আন্দোলনের পক্ষে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
বৃহস্পতিবার বিকালে বৈষম্য, নিপীড়ন, গণগ্রেপ্তার এবং ছাত্র নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলটি সাহেবগঞ্জ থেকে শুরু করে সদর রোড হয়ে বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, এই আন্দোলন শুধুমাত্র ব্যক্তির মুক্তির জন্য নয়, বরং বৈষম্য, নিপীড়ন, গণগ্রেপ্তার এবং ছাত্র নির্যাতনের বিরুদ্ধে। এই আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া শেষ ব্যক্তিটি মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
খুলনায় দুই মামলায় আটক ১১ জন কারাগারে
খুলনায় গত বুধবার পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশের দায়ের করা মামলায় দুই শতাধিক আসামি করা হয়েছে। সংঘর্ষের সময় আটক ১১ জনকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার সরদার রাকিবুল ইসলাম বলেন, বুধবারের ঘটনায় আটক শিক্ষার্থীদেরকে রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ঢুকে অন্য যারা বিশৃঙ্খলা করেছে তাদেরকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জয়পুরহাটে গ্রেপ্তার শতাধিক পেরিয়েছে
জয়পুরহাটে কোটা সংস্কার অন্দোলনকে কেন্দ্র করে পাঁচ থানার ৬টি মামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় গ্রেপ্তার আসামির সংখ্যা শতাধিক পেরিয়ে ১০২ জন হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে শিক্ষার্থী ও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার জয়পুরহাট পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পরিদর্শক কাওসার আলী এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কোটা সংস্কার অন্দোলনকে ঘিরে নতুন করে কোনো থানায় মামলা হয়নি। ৬টি মামলার মধ্যে সদর থানায় দুটি মামলা হয়েছে। আর ৪টি মামলা জেলার চার থানা- পাঁচবিবি, কালাই, ক্ষেতলাল ও আক্কেলপুর থানায় হয়েছে। এসব মামলায় ৮৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও অনেকেই আসামি হয়েছেন। এসব মামলায় এ পর্যন্ত ১০২ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন।
তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকরা