সাইফুল হক মোল্লা দুলু, মধ্যাঞ্চল
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৪৪ পিএম
ব্যাংক মানে শুধু অর্থের লেনদেন বা ঋণসুবিধা প্রদান নয়, এর বাইরেও একটি ব্যাংকের রয়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা। এনআরবিসি ব্যাংক সেই দায়বদ্ধতাবোধ থেকে কিশোরগঞ্জে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে ভিন্নধর্মী আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত থেকে অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে এনআরবিসি ব্যাংক।
ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার ব্যবস্থাপক সবুজ বলেন, ‘এনআরবিসি ব্যাংক মনে করে ব্যাংকিং হচ্ছে সৃজনশীলতার একটি আনন্দময় অধ্যায়। যেখানে জীবনের নানা পর্বে সৃষ্টিশীল আয়োজনগুলোকে উদ্ভাসিত করে।’
দেশে চলমান ৬০টি ব্যাংকের মধ্যে বেসরকারি ব্যাংকিং সেক্টরে ‘প্রবাসীর স্বপ্ন’ নিয়ে কিশোরগঞ্জে এনআরবিসি ব্যাংক ইতোমধ্যে আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছে। নিজেদের কর্মদক্ষতা, সেবামূলক মানসিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও উদ্ভাবনী শক্তিকে অর্থনৈতিক গতিপ্রবাহে ও লেনদেনে এই ব্যাংক অনন্য ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে, কিশোরগঞ্জ এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত ১৭টি শাখা, উপশাখায় গ্রাহকবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি ইতোমধ্যে ব্যাংকটিকে একটি ভিন্ন অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান এসএম তমাল পারভেজসহ কিশোরগঞ্জের কৃতী সন্তান স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মামুনের উৎসাহে ও দিকনির্দেশনায় কিশোরগঞ্জের প্রতিটি শাখায় কর্মীদের সৃষ্টিশীল ভাবনা ও কর্মে ব্যাংকটি জেলার আর্থিক আঙিনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
৭ জুলাই ছিল বিশ্ব চকলেট দিবস। ঐদিন ব্যাংক ব্যবস্থাপকের নির্দেশে গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন বিল দিতে আসা গ্রাহকদের হাতে চকলেট তুলে দেওয়া হয়। আকস্মিক এ আয়োজনে বিল দিতে আসা বিভিন্ন বয়সের গ্রাহকরা বেশ খুশি হয়।
জানা যায়, ২০২০ সালে বছরের প্রথম দিন কিশোরগঞ্জে এনআরবিসি ব্যাংকটি হিসাব ১০০, ব্যক্তি ১০০, টাকাও ১০০ লাখ শিরোনামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করে। ২০২১ সালের পঁচিশে মার্চ ৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সম্মাননাসহ হিসাব ৫০, আমানত ৫০ লাখ, বিনিয়োগ ৫০ লাখ শিরোনামে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে ‘পঞ্চাশের ব্যাংকিং’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এনআরবিসির শাখাগুলোর মাধ্যমে পথশিশু, বৃদ্ধ ও ভাসমান অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ সেলামি বাবদ নতুন টাকার ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি পালিত হয়। এ ছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ১৫টি শাখায় ১৫ আগস্টে নিহতদের স্মরণে ১৫টি ভালো কাজ ও বিশেষ ব্যাংকিং কার্যক্রম, সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১০৮টি পদ্ম ফুল ব্যাংকের গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ, জাতীয় বিজয় দিবস উপলক্ষে সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের স্মরণে সাতজন তরুণ উদ্যোক্তাকে এবং ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিসংগ্রামে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। পৌষের শীতের রাতে হাওরে ভাসমান নৌকায় থাকা শীতার্ত জেলেদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি, করিমগঞ্জ উপজেলার শতবছরের ঐতিহ্য বাঁশ বেতের পল্লীতে স্বল্প সুদে ঋণ বিতরণ কর্মসূচি অন্যতম।
এ ছাড়া রয়েছে গত হেমন্তে কিশোরগঞ্জ শাখায় শতাধিক গ্রাহককে নিয়ে শীতের বর্ণিল পিঠা উৎসব, পহেলা ফাগুনে শাখার সকল কর্মকর্তাকে নিয়ে হলুদ গরণে বসন্ত বরণ, লাল গোলাপের ফুলেল শুভেচ্ছা আর মিষ্টি মুখে বছরের প্রথম দিনে ইংরেজি বর্ষবরণ, ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ভৈরবের তরুণ নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সম্মাননা আয়োজন, বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপন।
ব্যাংকের স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার মোহাম্মদ আলী চৌধুরী মামুন বলেন, ‘নাগরিক জীবনের প্রাত্যহিক অংশ ব্যাংকিং লেনদেন আগামীতে আরও বর্ণাঢ্য ও রঙিন হয়ে ধরা দেবে আমাদের প্রতিদিনকার সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায়। হাওরের প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষিত মেয়েটি এখন এনআরবিসি ব্যাংকের কর্মী। তার মাধ্যমে তৃণমূলের সাধারণ গ্রাহক ব্যাংকের দ্বার পর্যন্ত আসছে। এর চেয়ে সৃজনশীলতা আর কী হতে পারে!’
তিনি আরও বলেন, ‘যাপিত জীবনে বেঁচে থাকার পাশাপাশি আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করার কাজে এমন অসংখ্য কর্মী রয়েছে এনআরবিসি ব্যাংকে, যা দেশের ও আমাদের গর্ব। তাই আমরা এই ধারাবাহিকতায় আরও অধিক সংশ্লিষ্টতার মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকিং কর্মকাণ্ডের প্রধান দিক ডেভিড ও ক্রেডিট কার্যক্রমকে শাণিত করব, প্রাণিত করব এই প্রত্যাশা করছি।’