এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৭:৩৮ পিএম
বাগেরহাটের মোরলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেটটি স্থানীয় কৃষকদের দাবির মুখ খুলে দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা আবার বন্ধ করে দেওয়া হয়। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্লুইসগেট বন্ধ রাখায় হাজার হাজার বিঘা জমির আমন চাষ বিঘ্নিত হচ্ছে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের খাউলিয়া ইউনিয়ন অংশের পূর্ব-চিপাবারইখালীর স্লুইসগেটটি বন্ধ রাখায় দুর্ভোগে পড়েছে শত শত কৃষক। কিন্তু আরেকটি পক্ষ স্লুইসগেট বন্ধ করে মাছ ধরতে চায়। এ নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরেজমিনে খাউলিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিপা বারইখালী গ্রামের কৃষক দুলাল, মনির, শাজাহান, মোশারেফ, মহারাজ, ফারুক জানান, আমরা পানির অভাবে আমনের বীজতলা তৈরি করতে পারিনি। স্লুইসগেটটি বন্ধ রাখলে পর্যাপ্ত পানির অভাবে আমন চাষ বিঘ্নিত হবে। আমরা স্লুইসগেটটি খুলে দিলেই প্রতিপক্ষ বিলে মাছ ধরার জন্য বন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছি আমরা।
কৃষকরা আরও জানান, ইউনিয়নের ৩নং, ৪নং, ৬নং ও ৯নং ওয়ার্ডের হাজার হাজার বিঘা জমির চাষাবাদ এ স্লুইসগেট দিয়ে আসা পানির ওপরই নির্ভর করে। তাই আমন চাষ করতে হলে যেকোনো মূল্যে গেট খুলে পানির ব্যবস্থা করতে হবে।
ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মাসুম হাওলাদার জানান, পানির অভাবে কৃষকরা এই ভরা মৌসুমে চাষাবাদ করতে পারছেন না। কৃষকরা বারবার স্লুইসগেট খুলে দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ একটি মহল তা বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি আরও জানান, স্লুইসগেট খোলা বন্ধ নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা অংশের ৩৫/১ পোল্ডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবুল কাশেম বলেন, খালের দু’পাড়ের বাসিন্দাদের সমন্বয় করে পানি আসা-যাওয়া করার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে কিন্তু আমার কথা কেউ শুনছে না। পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে। ব্যাপারটি আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
খাউলিয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি মো. মাহফুজ হাওলাদার জানান, আমরা কৃষকদের দুরবস্থা দেখে রবিবার সকালে গেট খুলে দিয়েছি। কিন্তু পরক্ষণেই স্থানীয় মজনু হাওলাদার এসে কৃষকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে এবং আবারও গেট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে কৃষকদের তাড়িয়ে দিয়েছে। এ ব্যাপারে মজনু হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নাছির হাওলাদার জানান, ৬নং ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা নিচু, তাই পানি উঠলে বীজতলা ডুবে যায়। স্থানীয়রা গেট বন্ধ করে দেয়। তবে, এলাকাবাসীকে পকেট গেট বন্ধ করে মূল গেট খুলে দিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, এখন ভরা আমন মৌসুম। তাই কৃষকদের বীজতলায় পানির প্রয়োজন। স্লুইসগেট তদারকির দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কমিটির। সেই কমিটিতেও আমাদের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নেই। তবে, কৃষক যাতে পর্যাপ্ত পানি পায় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম তারেক সুলতান বলেন, স্লুইসগেটের বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।