অর্ণব মল্লিক, কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৭:২০ পিএম
সড়কে বিপজ্জনক বাঁক। কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়ি-ঘাঘড়া সড়কের ওয়াগ্গা এলাকা। প্রবা ফটো
রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার বড়ইছড়ি-ঘাঘড়া সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সড়কটি দিয়ে রাঙামাটি-কাপ্তাই ছাড়াও বান্দরবান, রাজস্থলী, কক্সবাজার মহাসড়কেও যাতায়াত করা যায়। তবে সড়কটি বেশ অপ্রশস্ত, রয়েছে বিপজ্জনক একাধিক বাঁক। সড়কটি দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। গত বছরের শুরু থেকে এ বছরের জুলাই পর্যন্ত কয়েকটি ছোট-বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, আহত হয়েছে অনেকেই।
চালক, যাত্রীসাধারণসহ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, জিপ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। সাধারণ যানবাহন ছাড়াও বড়ইছড়ি-ঘাঘড়া সড়ক দিয়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনের যানবাহনও নিয়মিত চলাচল করে।
সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী রতন দে, স্বপ্না মারমা, সাধন তঞ্চঙ্গ্যাসহ কয়েকজন বলেন, পাশ কাটানোর সময় দুটি যানবাহনের মাঝে ফাঁকা জায়গা থাকে না। ফলে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনকে জায়গা (সাইড) দেওয়ার সময় চালকসহ আমরা সাধারণ যাত্রীরা আতঙ্কে থাকি। এ ছাড়া গত দুই বছরে ছোট-বড় কয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছে অনেকেই। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হয়। আমাদের দাবি, দুই লেনের সড়কটি চার লেন করা হোক।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, আশপাশে ঝাড়-জঙ্গল বৃদ্ধি পাওয়ায় সড়কটি দিন দিন আরও ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। এ ছাড়া সড়কটিতে বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক রয়েছে। বাঁকে সতর্কতা চিহ্ন থাকলেও বেশ কয়েকটি লতাপাতার জঞ্জালে দেখা যাচ্ছে না। আশপাশের পাহাড় থেকে নেমে আসা জঙ্গলের লতাপাতার জঞ্জালে ছেয়ে গেছে। এতে করে সড়কটি একদিকে যেমন সরু হয়ে আসছে, তেমনি বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দেখা যায় না। সড়কটির কিছু কিছু অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই সেখানে পানি জমে, এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া কুকিমারা নামক এলাকায় দেখা যায়, উঁচু-নিচু অংশের পাশে ধারক দেয়াল নির্মাণসহ বিভিন্ন মেরামত কাজের মালামাল সড়কে রাখা হয়েছে। এতে যেকোনো সময় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
কথা হয় সড়কে চলাচলকারী মো. সেকান্দার, স্বপন দাশ, শান্তি মারমাসহ কয়েকজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকের সঙ্গে। তারা বলেন, বড় বড় বাস, ট্রাক সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। অনেক সময় বড় গাড়ির মুখোমুখি হলে সড়কে ব্যালেন্স করতে সমস্যায় পড়তে হয়। আবার দেখা যায়, বড় গাড়িকে ওভারটেক করে যাওয়ারও সুযোগ থাকে না। তাই সড়কটি প্রশস্ত করার পাশাপাশি সংস্কার হওয়া প্রয়োজন।
মোটরসাইকেলচালক আলাউদ্দিন আহমেদ, মো. ফয়সাল জানান, সড়কের বাঁকগুলো বেশ ভয়ংকর। বিশেষ করে, বৃষ্টি হলে বাঁকগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়। ওই সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার সম্মুখীন হয়। তাই সড়কের বাঁকগুলো যতটা সম্ভব সোজা করে সড়কটি প্রশস্ত করা প্রয়োজন।
ইয়াকুব আলী, আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন বাসচালক বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন রাঙামাটি থেকে বান্দরবান কিংবা রাজস্থলী যাত্রীদের নিয়ে আসা-যাওয়া করি। কিন্তু সড়কটিতে গাড়ি চালাতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। কেননা সরু সড়কে ছোট ছোট গাড়িগুলোকে সাইড দেওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। তা ছাড়া বাসের গতি ও ব্রেক নিয়ন্ত্রণ করতেও আমাদের হিমশিম খেতে হয়।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক চার লেনে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা। তিনি বলেন, ‘বড়ইছড়ি-ঘাঘড়া সড়কটি চার লেন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে সতর্কতা চিহ্নসংবলিত স্টিকার বোর্ড বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর সড়কের পাশে মেরামতসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি না রাখতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অবগত করা হবে।’