চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৫:৩৩ পিএম
আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৬:০০ পিএম
অতি ভারী বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে বন্দর নগরী। প্রবা ফটো
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার রাত থেকে থেমে থেমে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিপাত বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্তও থামেনি। এতে মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠে চরম দুর্ভাগে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৪৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস।
স্থানীরা বলছেন, ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে জোয়ারের পানি একসঙ্গে মিশে জলাবদ্ধতা চরম আকার ধারণ করেছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আলী আকবর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১৪৯ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ভোর পৌনে ৫টায় জোয়ার শুরু হয়ে ভাটা নামে বেলা ১১টার দিকে। ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে তাই পাহাড় ধসের আশঙ্কা রয়েছে।’
এদিকে বুধবার ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান প্রধান সড়ক ও গলিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠে যায়। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট, পশ্চিম খুলশী মুরাদপুর, ফরিদার পাড়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, ষোলশহর, মোগলটুলী, আগ্রাবাদ, ট্রাঙ্ক রোড, বাকলিয়া ডিসি রোড, তালতলা, চান্দগাঁও, খতিবের হাট, সিঅ্যান্ডবি কলোনি, শুলকবহর এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় ও পথচারীরা।
বাদুরতলা এলাকার অরবিট নামে কলেজ পড়ুয়া এক শিক্ষার্থী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘বাদুরতলা থেকে কাপাসগোলা, চকবাজার এলাকার মূল সড়কের পাশাপাশি অলিগলিতে পানি উঠেছে। এলাকার মানুষ খুব কষ্টে পড়ে গেছে।
উল্লেখ্য, বন্দরনগরী চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেগা প্রকল্পের কাজ করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। প্রকল্পটি ২০১৬ সালের আগস্টে শর্ত সাপেক্ষে একনেক অনুমোদন দিলেও আট বছরেও প্রকল্পটি শেষ করতে পারেনি। আর সিটি করপোরেশনও জলাবদ্ধতা নিয়ে নিয়ে খুব একটা কার্যকরী উদ্যোগ নিতে পারেনি। তা নিয়ে চট্টগ্রামবাসী সেবাসংস্থা দুটোর ওপর ব্যর্থতার দায় দিচ্ছেন।