নোয়াখালী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪ ১৩:১৯ পিএম
কৃষি জমিতে ধরা পড়ল সাকার মাছ। প্রবা ফটো
নোয়াখালীর সুবর্ণচরের কৃষি জমিতে রাক্ষুসে সাকার মাছ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকালে উপজেলার পূর্ব চরবাটা ইউনিয়নে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাবিবিয়া গ্রামে মাছটি ধরা পড়ে।
খবর পেয়ে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ মাছটি দ্রুত মেরে ফেলার পরামর্শ দেন নোয়াখালী জেলার মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন।
স্থানীয়রা জানায়, স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ মিয়া তার কৃষি জমিতে পরিস্কার করতে যান। সেখানে অনেক মাছের সঙ্গে একটি সাকার মাছ পান তিনি। পরে মাছগুলো স্থানীয় হাবিবিয়া মার্কেটের সামনে বিক্রি করতে নিলে অন্যসব মাছ বিক্রি হলেও সাকার মাছটি থেকে যায়।
মৎস্য অধিদপ্তর বলছে, সাকার দেশীয় প্রজাতির মাছের ডিম ও রেণু খেয়ে মাছের বংশবিস্তারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। এ মাছ যে কোনো পরিবেশে বাঁচতে পারে এবং দ্রুত বংশবৃদ্ধির কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের সঙ্গে খাদ্য ও বাসস্থান নিয়ে প্রতিযোগিতা করে। মাছটি খাওয়া যায় না। সর্বপরি সাকার মাছ জলজ জীববৈচিত্র্য নষ্ট করে। ফলে মাছটি নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।
কৃষক মোহাম্মদ মিয়া বলেন, এই মাছ আমার কৃষি জমিতে পাইসি। এটার নাম কী, খাওয়া যাবে কিনা কিছুই আমি জানি না। মাছটার পুরো গায়ে কাঁটা আছে। মানুষজন বলল এটা নাকি সাকার ফিশ। আমি দোকানে সব মাছ বিক্রি করেছি কিন্তু মাছটি কেউই নেয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, আমি মাছটি দেখেই চিনেছি। অন্য মাছ ক্রয় করলেও এই মাছ কেউ নেয়নি। মাছটির শারীরিক গঠন আকর্ষণীয়। কাঁটাযুক্ত শরীরজুড়ে তার নান্দনিক কারুকাজ। নাম সাকার মাউথ ক্যাটফিশ। শোভাবর্ধনের জন্য এই মাছ অ্যাকুরিয়ামে রাখা হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, সাকার মাছ চাষ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এই মাছ অ্যাকুরিয়ামের শোভাবর্ধনের জন্যই আনা হয়েছিল এই দেশে। কিন্তু অসচেতনতার কারণে এটি আমাদের জলাশয়ে পাওয়া গেছে। সবার প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে যে পুকুর, জলাশয় কিংবা নদীতে এ মাছ পাওয়া যাবে সেটিকে যেন ধ্বংস করা হয়। কারণ সাকার ফিশ বা সাকার মাছ অন্য মাছগুলো খুব দ্রুত খেয়ে ফেলে। এ বিষয়ে জেলায় জেলে ও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানো হবে।