× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কন্টেইনার ডেলিভারি

বাড়তি চার্জ যাচ্ছে ভোক্তার ঘাড়ে

হুমায়ুন মাসুদ, চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৪ ১৭:২৩ পিএম

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ইয়ার্ড। প্রবা ফটো

চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার ইয়ার্ড। প্রবা ফটো

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইন্টারনেট চালু না থাকায় পাঁচ দিন বন্ধ ছিল কন্টেইনার ডেলিভারি। এতে বেকায়দায় পড়েন আমদানিকারকরা। নির্ধারিত সময়ে পণ্য ডেলিভারি নিতে না পারায় ওই সময় বন্দরে তৈরি হয় কন্টেইনার জট। ৫৩ হাজার টিইইউস ধারণক্ষমতার বন্দর ইয়ার্ডে ৪১ হাজারে গিয়ে ঠেকে কন্টেইনার জট। ডেলিভারি আটকে যাওয়া ওই কন্টেইনার খালাস করতে গিয়ে এখন আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট। 

এক দিনের জন্য ২০ ফুটের একটি কন্টেইনারের পেছনে বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট গুনতে হচ্ছে ৬ থেকে ১২ ডলার। ৪০ ফুটের একটি কন্টেইনারের পেছনে দিনে গুনতে হচ্ছে ১২ থেকে ২৪ ডলার। 

ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব না করায় এই বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট মওকুফের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু তাতে সায় দেয়নি বন্দর কর্তৃপক্ষ। 

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টোরেজ রেন্ট মওকুফ করতে হলে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নির্দেশনা প্রদান করা হয়নি। তাই বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট মওকুফ করার এখতিয়ার চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নেই। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) এনামুল করিম প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা স্টোরেজ রেন্ট মওকুফের যে দাবি জানিয়েছে আমরা সেটি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনার জন্য আমদানিকারকরাও বসে নেই। তারা পণ্য ডেলিভারি নিচ্ছেন। শুক্রবার এ বছরের সবচেয়ে বেশি ৫ হাজার ২০০ কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে। গত শনিবার কন্টেইনার ডেলিভারি হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৯ টিইইউস।’

বাড়তি এই স্টোরেজ রেন্ট মওকুফ না করলে সেটি গিয়ে ভোক্তার ঘাড়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা জানিয়েছেন, স্টোরেজ রেন্ট হিসেবে আমদানিকারকরা বাড়তি যেই টাকা পরিশোধ করবেন সেটি তারা শেষমেশ পণ্যের দামে তুলে দেবেন। শুধু তাই নয়, একই সময়ে ইন্টারনেট সচল না থাকায় রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা যায়নি। তাই আগে যেখানে একটি জাহাজ দুই দিনের মধ্যে লোড-আনলোডের কাজ শেষ করে বন্দরের জেটি ছেড়ে যেত। সেখানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একটি জাহাজ জেটিতে ছিল চার থেকে পাঁচ দিন। এতে জাহাজ মালিককে গুনতে হচ্ছে বাড়তি চার্জ। ওই চার্জও এখন গিয়ে পড়বে ভোক্তার ঘাড়ে। 

বন্দরের ট্যারিফ অনুযায়ী, আমদানি পণ্যের কন্টেইনার জাহাজ থেকে খালাসের পর চার দিন বিনা ভাড়ায় বন্দর ইয়ার্ডে রাখতে পারেন আমদানিকারকরা। এর বেশি রাখতে গেলে পঞ্চম দিন থেকে ২০ ফুটের একটি কন্টেইনারের জন্য প্রতিদিন স্টোরেজ রেন্ট পরিশোধ করতে হয় ৬ ডলার। অষ্টম দিন থেকে এই ভাড়া বেড়ে তখন একটি কন্টেইনারের বিপরীতে স্টোরেজ রেন্ট পরিশোধ করতে হয় ১২ ডলার। ২১ দিন পর্যন্ত এই হারে প্রতিদিন ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। এরপর ২২তম দিন থেকে ২০ ফুটের একটি কন্টেইনারের পেছনে ভাড়া পরিশোধ করতে হয় ২৪ ডলার করে। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘ইন্টারনেট না থাকায় জাহাজের বার্থিং সময় বেড়েছে। আগে যেখানে একটি জাহাজ পণ্য লোড-আনলোডে দুই দিন জেটিতে থাকত, সেখানে ইন্টারনেট সচল না থাকার সময় একটি জাহাজকে চার থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত থাকতে হয়েছে। এতে আমাদেরকে প্রতিটি জাহাজের পেছনে দিনে ১৫ থেকে ২০ হাজার ডলার লোকসান গুনতে হয়েছে।’ 

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জাহাজের পেছনে যে বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে সেটিও গিয়ে পড়বে পণ্যের দামে। কারণ জাহাজের এই বাড়তি খরচ শিপিং লাইনগুলো আমদানিকারকদের কাছ থেকেই নেবেন। 

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ওমর হাজ্জাজ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জাহাজের বাড়তি খরচ, বন্দরের স্টোরেজ রেন্ট এগুলো আল্টিমেট গিয়ে পণ্যের দামে পড়বে। তাই যাতে পণ্যের দাম না বাড়ে সেজন্য আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে আমরা বন্দর কর্তৃপক্ষকে বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট মওকুফ করার অনুরোধ জানিয়েছি। কারণ এখানে আমদানিকারকদের কোনো হাত নেই। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকার কারণেই তারা কন্টেইনার ডেলিভারি নিতে পারেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজন আমদানিকারক কখনও লোকসান দিতে চায় না। পণ্য আমদানিতে জাহাজের ভাড়া থেকে শুরু করে যা যা খরচ হয় সব খাতের খরচ যোগ করেই পণ্যের দাম নির্ধারণ করেন আমদানিকারকরা। তাই জাহাজ ভাড়া থেকে বাড়তি স্টোরেজ রেন্ট এসব খাতে বাড়তি খরচ বহন করলে সেটি আমদানিকারকরা পণ্যের দামে তুলে দেবেন। এতে পণ্যের দাম বেড়ে যাবে। আর বাড়তি দামে পণ্য কিনতে হবে ভোক্তাদের।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা