× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

এখনও ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না অগ্নিদগ্ধ ফয়সাল ও মাহবুব

কোটা সংস্কার আন্দোলনে আগুন থেকে বেঁচে ফেরা

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৪ ১৮:৪৮ পিএম

অগ্নিদগ্ধ ফয়সাল ও মাহবুব। প্রবা ফটো

অগ্নিদগ্ধ ফয়সাল ও মাহবুব। প্রবা ফটো

‘সেদিনের কথা মনে হলে এখনও গা শিউরে উঠছে। চোখের সামনে ভেসে উঠছে আগুন আর চারদিক অন্ধকার করা ধোঁয়া। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। অন্ধকারে কিছু দেখাও যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় সবাই মিলে ঠিক করলাম, বাঁচতে হলে এই ভবন থেকে বের হতে হবে। এরপর সঙ্গে থাকা হাতুড়ি দিয়ে একটি দেওয়াল ও জানালার গ্লাস ভেঙেছিলাম আমরা। পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে গিয়ে আমার হাত, পা ও শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। এরপর নিচে নেমে কিছু দূর হেঁটে সড়কের ওপর পড়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে এক নারী আমাকে আর সহকর্মী মাহবুবকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সিএনজিচালিত অটো রিকশায় তুলে দেন।’ নারায়ণগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় আগুন থেকে বেঁচে ফেরা কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলীর ছেলে ফয়সাল মন্ডল এভাবেই সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। 

গত ২০ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় সহিসংতায় নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি দশতলা ভবনে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ওই ভবনে সাজসজ্জার কাজ করছিলেন ফয়সালসহ আরও কয়েকজন। ওই ভবনে আগুনে পুড়ে কুমারখালীর দুজনসহ তিনজন মারা যান। আহত হন ফয়সাল ও মাহাবুবসহ আরও কয়েকজন। ফয়সাল জানান, সিএনজি করে ওই রাতেই ঢাকা সাভার এলাকায় এক আত্মীয় বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি ও সঙ্গী মাহবুব। সেখান থেকে ২১ জুলাই অ্যাম্বুলেন্সে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছেন তারা।

সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আহত ফয়সাল মন্ডল বলেন,‘আমরা ১৪ জন ব্যাংকে কাজ করছিলাম। দুপুরেই ভবনের বাইরে থেকে শুধু গুলির আওয়াজ আসছিল। আর বিকালে ব্যাংকের গেটে আগুন দিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা।’ তিনি আরও বলেন,‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরে জীবিকার্জনের পথ বেছে নিয়েছিলাম। এখন শুধু বুক ভরা হতাশা আর আতঙ্ক। কোনোভাবেই ভুলতে পারছি না সেদিনের ঘটনা।’ ফয়সালের সহকর্মী আহত মাহাবুব কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চর ভবানীপুর গ্রামের কৃষক আক্কাছ বিশ্বাসের ছোট ছেলে।

দোচালা টিনশেডের মাটির ঘরে বিছানায় শুয়ে আক্ষেপ করে মাহবুব বিশ্বাস বলছিলেন, ‘দুলাভাইয়ের সঙ্গে কাজে গিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দিল হাত, পা, শরীর।’ সেদিনের আগুনে পুড়ে মারা গেছেন মাহবুবের দুলাভাই ওহাব মন্ডলের ছেলে সেলিম মন্ডল, ফুফাতো দুলাভাই মৃত সাবের আলীর ছেলে আব্দুস সালাম। আহত হয়েছেন প্রতিবেশী ওয়াজেদ আলীর ছেলে ফয়সাল মন্ডল, কাদেরের ছেলে পারভেজ, আবুল হোসেনের ছেলে আব্দুল হামিদ। হামিদ ঢাকায় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তারা সবাই চরভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা। মাহবুব বলেন, ‘এখন অনেকটা সুস্থবোধ করলেও কিছুতেই ঘুমাতে পারছি না। চোখ বুজলেই ভেসে উঠছে সেদিনের দৃশ্য। আগুনের কালো ধোঁয়া। কানে বাজছে গুলির শব্দ। বিশ্বাসই হয় না যে এখনও বেঁচে আছি।’

আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোড এলাকায় একটি দশতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় বেসরকারি ব্যাংকের একটি শাখায় সাজসজ্জার কাজ করছিলেন মাহবুব, সেলিম, সালাম, ফয়সাল, হামিদ, পারভেজসহ অন্তত ১৪ জন। ভবনটিতে একটি পুলিশ ক্যাম্প রয়েছে। আর নিচতলায় ছিল মার্কেট। বিক্ষোভকারীরা ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার পাশাপাশি মাহবুব ও ফয়সালের  মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে মারধর করে। পরে শ্রমিক পরিচয় দিয়ে রক্ষা পান তারা। এরপর বিকাল ৪টার দিকে ভবনের বাইরে থেকে বিক্ষোভকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। শোনা যায় গুলির শব্দও। পরে সাড়ে ৪টার দিকে ব্যাংকের প্রবেশপথে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মাহবুবের বাবা আক্কাছ বিশ্বাস বলেন, ‘ওরা তো আন্দোলনে ছিল না। সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। আগুনে পুড়ে আমার দুই জামাই মারা গেছেন। ছেলে ও আত্মীয়রা আহত হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার ও ক্ষতিপূরণ চাই।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা