লালমনিরহাট সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৪ ২০:৫৫ পিএম
আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৪ ২২:৩০ পিএম
জমি থেকে হাঁস তাড়ানোকে কেন্দ্র করে ইসরাত জাহান মৌফি (১৭) নামের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে প্রতিবেশী কয়েকজন মিলে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে নির্যাতন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের সময় তার গোপনাঙ্গেও আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় লোকলজ্জায় সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
গত বুধবার দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের গুড়িয়াদহ গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় মৌফির মরদেহ উদ্ধার করে থানা-পুলিশ। মৌফি ওই গ্রামের আব্দুল মতিন মন্ডলের মেয়ে। সে স্থানীয় কাউনিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিল। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে কলেজছাত্রীর বাবা আব্দুল মতিন মন্ডল প্রতিবেশী ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেছেন।
জানা গেছে, প্রতিবেশী সুলতান মন্ডল, সিরাজ আলী মন্ডল ও শাহজাহান আলী মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিবাদ চলে আসছে। এরই জেরে বুধবার সকালে জমি থেকে হাঁস তাড়ানোকে কেন্দ্র করে ঝগড়ার একপর্যায়ে আসামিরা আব্দুল মতিন মন্ডলের বাড়িতে এসে হামলা চালায়। এ সময় তারা মতিনের স্কুলশিক্ষিকা স্ত্রী জোহরা বেগম, ছেলে কলেজছাত্র ইউসুফ ও মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইসরাত জাহান মৌফিকে পিটিয়ে আহত করে। তারা মৌফির গোপনাঙ্গে ইট দিয়ে আঘাত করে। কয়েকজন নারী মিলে মৌফির কাপড় টেনেছিঁড়ে বিবস্ত্র করে ফেলে। পরে অন্য প্রতিবেশী নারীরা তাকে উদ্ধার করে ওড়না দিয়ে ঢেকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়।
প্রতিবেশীরা জানায়, কলেজছাত্রী ইসরাত জাহান মৌফি ছিল পর্দানশীল। গ্রামবাসীর সামনে বিবস্ত্র হওয়ায় সে ভীষণ লজ্জা পায়। আহতরা সবাই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গিয়ে ভর্তি হলেও সে আর ঘর থেকে বের হয়নি। একপর্যায়ে দুপুরের দিকে বাড়িতে একা থাকার সুযোগে ঘরের ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মৌফির বাবা আব্দুল মতিন মন্ডল ও মা জোহরা বেগম বলেন, মেয়েকে লাঠি দিয়ে পিটিয়েছে তাতে দুঃখ নেই। কিন্তু ওরা যদি সবার সামনে মেয়েকে বিবস্ত্র না করত, লজ্জাকর ঘটনা না ঘটাত, তাহলে সে আত্মহত্যা করত না। ওদের জন্যই আমরা মেয়েটাকে হারালাম। আমরা এর বিচার চাই।
ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ওই ঘটনায় নিহত কলেজছাত্রীর বাবা আব্দুল মতিন মন্ডল বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫-৬ জনের নামে আত্মহত্যার প্ররোচনার লিখিত অভিযোগ দিলে তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।