চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫৪ পিএম
আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ২০:২০ পিএম
বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। প্রবা ফটো
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় দেশের অর্থনীতির বিরাট ক্ষতি হয়েছে মন্তব্য করে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আমি জানি না অর্থনৈতিক এ ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যাবে। তবে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন আমরা এ ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম। ব্যবসায়ীদের আমি ধন্যবাদ জানাই। তাদের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। কারণ তাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার আজ এত বড় হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মরত শ্রমিকদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম সোহায়েলসহ বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করার চেষ্টা হয়েছিল, ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। আমার মনে হয় সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না। ব্যবসায়ীরা বলেছেন, ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠতে শুধু প্রধানমন্ত্রীর সাহস দরকার। প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের সেই সাহস দিচ্ছেন, ভবিষ্যতেও দেবেন। কাজেই আমাদের অর্থনীতি গতিশীল থাকবে। আমাদের যে লক্ষ্য ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ, সেই লক্ষ্য কেউ টেনে ধরতে পারবে না।’
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সহিংসতায় চট্টগ্রাম বন্দরে তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি। এ জন্য আমি চট্টগ্রামবাসীকে ধন্যবাদ জানাই। সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, আনসার সদস্যদের ধন্যবাদ জানাই। তারা সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করেছেন বলেই চট্টগ্রাম বন্দরসহ বড় বড় স্থাপনাগুলো সচল ছিল।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঠিক সিদ্ধান্তের কারণে দুর্যোগকালীন সময়ে আমরা রক্ষা পেয়েছি। ওনার বদন্যতায় আমাদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আমরা আশ্বস্ত হয়েছি যে, আমাদের অর্থনীতির লাইফলাইন চট্টগ্রাম বন্দর নিরাপদ আছে। একদম নিরাপদে আছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইন্টারনেট না থাকায় কাস্টমস কাজ করতে পারেনি বলেই বন্দরে কন্টেইনার জট তৈরি হয়েছে। তারা ম্যানুয়ালি কিছুটা কাজ করলেও জাহাজ থেকে প্রতিদিন যেই পরিমাণ কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে সেগুলো খালাস করা সম্ভব হয়নি। তাই বন্দরে কন্টেইনারের স্তূপ তৈরি হয়েছে। কন্টেইনার খালাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমাদের অর্থনীতিতে বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। পোশাক শিল্পসহ অন্যান্য যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান আছে সেগুলোতে উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে।’
রেলপথে কনটেইনার পরিবহন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে। আপনারা জানেন রেল বন্ধ হয়ে গেছে, নৌপথ বন্ধ হয়ে গেছে। সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক ব্রিজ কালভার্ট ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। এই রকম পরিস্থিতিতে আমরা আলোচনা করছি। এগুলো কাটিয়ে উঠে তারপর কন্টেইনার জট নিরসনে কাজ করব। করোনার সময়ও এ ধরনের কন্টেইনার জট তৈরি হয়েছিল। তখন অফডক, কাস্টমস, এনবিআর সাপোর্ট দিয়েছিল। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ধাক্কা কাটিয়ে উঠেছি। এবারও আমরা খুব দ্রুত জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারব।’
কন্টেইনারের ওপর বন্দরের ডেমারেজ আদায় প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে বন্দর পরিচালনা করা হবে না। অনেক কন্টেইনার আমদানিকারক পরিস্থিতির কারণে খালাস করতে পারেনি। বন্দরে পড়ে থাকায় তাদের বাড়তি চার্জের মুখোমুখি হতে হবে। আপনারা জানেন যে চট্টগ্রাম বন্দর ৫০০ কোটি টাকার ওপরে ওয়েভার দিয়েছিল করোনার সময়। আমাদের কাছে ব্যবসায়ীরা সেভাবে যদি উপস্থাপন করে চট্টগ্রাম বন্দর সেটা নিশ্চিতভাবে বিবেচনা করবে। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। সঠিক তথ্য-প্রমাণসহ এলে আমরা পাশে দাঁড়াব।’