× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

আশুগঞ্জ সাইলো

৬ বছরেও শেষ হয়নি ২ বছরের প্রকল্প

ইফতেয়ার রিফাত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৮:৫০ পিএম

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:৪৫ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের নির্মাণাধীন আধুনিক স্টিল রাইস সাইলো। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের নির্মাণাধীন আধুনিক স্টিল রাইস সাইলো। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের মেঘনা নদীর পাড়ে নির্মিত হচ্ছে আধুনিক স্টিল রাইস সাইলো। পুষ্টিগুণ অটুট রেখে সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত এ সাইলোতে চাল সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যশস্য সংরক্ষণাগার বলছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে নানা সংকটে দীর্ঘ ৬ বছরেও সাইলোটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফায় বাড়ানো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাসে। বর্ধিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে বিপুল পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করে খাদ্য বিভাগ। সংগৃহীত ধান-চাল রাখা হয় খাদ্য গুদামগুলোতে। আর জেলার খাদ্য গুদামগুলোর ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। বর্তমানে জেলার আশুগঞ্জে একটি সাইলো আছে। এটিতে গম সংরক্ষণ করা হয়। আর ধান ও চাল সংরক্ষণ করা হয় খাদ্য গুদামে। তবে জেলায় প্রতি মৌসুমে যে পরিমাণ ধান ও চাল সংগ্রহ করা হয়Ñ বিতরণের পর বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত থাকে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় উদ্বৃত্ত চাল সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার খাদ্য গুদামে।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গছে, চাল সংরক্ষণ নিয়ে সংকট নিরসনে সরকারের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষণাগার প্রকল্পের আওতায় আশুগঞ্জে নতুন একটি স্টিল রাইস সাইলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তমা কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ২০১৮ সালের এপ্রিলে চুক্তি করে খাদ্য অধিদপ্তর। ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সাইলোটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৫৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৪৯ হাজার ২৬৪ টাকা। আর প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২ বছর। কয়েক দফায় বাড়ানো প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর মাসে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ।

আধুনিক এ সাইলোটিতে ৩০টি বিন থাকার কথা। একেকটি বিনে সংগ্রহ করা যাবে ৩ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন চাল। স্টিল রাইস সাইলোটিতে স্বয়ংক্রিয় তাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের মাধ্যমে আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ২ বছর পর্যন্ত চালের পুষ্টিগুণ অটুট রেখে সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষিত চাল প্যাকেটজাত এবং বস্তাবন্দি করতে ঘণ্টায় ৫০০ টন স্পিডের বেল্ট কনভেয়িং এবং চেইন কনভেয়িং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ৩০টি বিনের সবক’টির স্থাপন কাজ শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী থেকে সাইলো পর্যান্ত জেটি, টপ সাইলো স্টিল ব্রিজ, টপ সাইলো স্টিল কলাম, বাল্ক ট্রাক রিসিভিং (বিটিআর) অবকাঠামো ও ট্রাক স্কেল ল্যাব ওয়েটসহ অন্যান্য অবশিষ্ট কাজগুলো চলছে। তবে কাজে খুব একটা গতি লক্ষ করা যায়নি। অনেকটা ঢিমেতালে চলছে কাজ। যদিও ইতোমধ্যে বিদেশ থেকে সাইলোর সব যন্ত্রাংশ চলে এসেছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা জানান, মূলত করোনা মহামারি ও নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ অভ্যন্তরীণ কিছু জটিলতায় প্রায় দেড় বছর সাইলোর নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকে। এ ছাড়া করোনার কারণে বিদেশ থেকে প্রকল্পের পরামর্শকরাও যথাসময়ে আসতে পারেননি। এতে করে প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হয়। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফায় বাড়ানো হয় প্রকল্পের মেয়াদ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলী মো. নিশাত হোসাইন বলেন, ‘সাইলোর বেশিরভাগ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আসে। কিন্তু করোনাকালে কোনো যন্ত্রাংশ আমদানি করা যায়নি। এ ছাড়া করোনার কারণে দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নির্মাণসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি নতুন করে সংকটে ফেলে। এতে করে কাজের অগ্রগতি কম হয়েছে। তবে সব সংকট কাটিয়ে এখন পুরোদমে কাজ চলছে। আশা করছি, সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আলমগীর কবির বলেন, ‘প্রতি মৌসুমেই বিতরণের পর আমাদের প্রচুর পরিমাণ চাল উদ্বৃত্ত থাকে। গুদামগুলোতে জায়গা সংকটের কারণে সেগুলো আশপাশের জেলাগুলোতে পাঠানো হয়। নতুন সাইলোটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে আমাদের এ সমস্যা আর থাকবে না।’

স্টিল রাইস সাইলো প্রকল্পের পরিচালক মো. রেজাউল করিম শেখ বলেন, ‘করোনার কারণে প্রকল্পটি বিলম্বিত হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য কিছু সমস্যার কারণে এক-দেড় বছর কোনো কাজই করা যায়নি। ফলে চার দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও ব্যয় বাড়বে না। সম্প্রতি সব সমস্যা সমাধান করে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।’ 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা