× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

১৪ হাজার মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র একটি

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৮:৪৫ পিএম

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৯:৫১ পিএম

১৪ হাজার মানুষের আশ্রয়কেন্দ্র একটি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সমুদ্র উপকূলবর্তী ইউনিয়ন ধুলাসার। এই ইউনিয়নের দুটি গ্রাম কাউয়ার চর ও চর গঙ্গামতি বঙ্গোপসাগরের তীরে অবস্থিত। দুই গ্রামে ১৪ হাজার মানুষের বাস। কিন্তু ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাসে তাদের নিরাপত্তার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে মাত্র একটি। সেটি চর গঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় এসব গ্রামের মানুষ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাড়িঘর ছেড়ে পাশের গ্রামে আশ্রয় নেয়। এ ছাড়া গ্রাম দুটির অধিকাংশ মানুষের বসবাস বেড়িবাঁধের বাইরে।

স্থানীয়রা জানায়, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বাইরে গ্রাম দুটির অবস্থান হওয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের সময় বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে ক্ষতি হয়েছে। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়ে চর দুটির অনেক টিউবওয়েল জোয়ারের পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে যায়। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে গ্রাম দুটি তলিয়ে যায়। ঝড়ের সময় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে হয়। এই দুই চরের মধ্যে আরও একটি আশ্রয়কেন্দ্র থাকলে ভোগান্তি পোহাতে হবে না। এ ছাড়া কাউয়ার চর ও চর গঙ্গামতির উঁচু জায়গায় চরের বাসিন্দাদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য টিউবওয়েল বসানো দরকার, যাতে জোয়ারের পানিতে টিউবওয়েল নষ্ট না হয়।

গঙ্গামতি গ্রামের ইদ্রিস গাজী জানান, প্রলয়ংকারী সুপার সাইক্লোন সিডর এ গ্রাম থেকে কেড়ে নিয়েছে সাতটি তরতাজা প্রাণ। এ গ্রামের বেশিরভাগই জেলে। আবার কেউ কেউ দিনমজুরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। আমাদের আশ্রয়ের জন্য মাত্র একটি সাইক্লোন শেল্টার রয়েছে।

একই গ্রামের সাহেদা বেগম বলেন ‘ঘূর্ণিঝড় রেমালের সময় চর গঙ্গামতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। বন্যার কারণে অস্বাভাবিক জোয়ারে ঘরে কোমর পানি। দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। পানির তোড়ে ঘরের বেড়া ভেঙে গেছে। ঘরের ভেতরে আর থাকার অবস্থা ছিল না। তাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়েছে।’ 

রানু বেগম নামে আরেকজন বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার বাড়িটা ধসে গেছে। উপায় না পেয়ে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাই।’

কাউয়ার চর গ্রামের জেলে হোসেন আলী বলেন, ‘ঝড়ের সময় আমাগো দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে যাইয়া উঠতে হয়। চরের মধ্যে একটা আশ্রয়কেন্দ্র থাকলে ভোগান্তি হইত না। আমরা চরেই একটা আশ্রয়কেন্দ্র চাই। এইডা হইলে ঝড়ের সময় আমরা দ্রুত যাইয়া আশ্রয় লইতে পারমু। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগিও হেইহানে রাখতে পারমু।’

আলী মাঝি নামে আরেকজন বলেন, ‘কাউয়ার চর এলাকায় প্রায় দশ হাজার মানুষের বসবাস। অপরদিকে চর গঙ্গামতি এলাকায় চার হাজার মানুষের বসবাস। অথচ মাত্র একটি আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ঝড়ের সময় মানুষজনের একটি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থান সংকুলান হয় না। এ চরের মধ্যবর্তী স্থানে আরও একটি আশ্রয়কেন্দ্র দরকার। আরেকটা আশ্রয়কেন্দ্র হলে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কম হবে।’

চর গঙ্গামতি এলাকার ইউপি সদস্য সিদ্দিক হাওলাদার জানান, চর গঙ্গামতি বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা গ্রাম। বন্যার সময় সবকিছু তলিয়ে যায়। এখানে যে চলাচলের বেড়িবাঁধটি রয়েছে, তা খুবই নিচু। ওই বেড়িবাঁধটি আরও উঁচু করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। আর বন্যার সময় টিউবওয়েলগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তাই বন্যার পর টিউবওয়েলের পানিও দূষিত থাকে, তা আর পান করা যায় না।’

ধুলাসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম বলেন, ‘কাউয়ার চরের বাসিন্দাদের কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নেই। দুর্যোগের সময় বেড়িবাঁধের বাইরের মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। চর গঙ্গামতি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধটি খুবই নিচু। ওই বেড়িবাঁধটি আরও উঁচু করে নির্মাণ করা প্রয়োজন। বিষয়গুলো একাধিকবার বিভিন্ন মিটিংসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে।’

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ওখানে সাইক্লোন শেল্টার প্রয়োজন। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা