রাজবাড়ী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ নভেম্বর ২০২২ ১০:১৫ এএম
আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৩৫ পিএম
রাজবাড়ীতে বেড়েছে সুগন্ধি আমনের আবাদ। ছবি : প্রবা
সাধারণ ধানের চেয়ে বাজারদর বেশি হওয়ায় রাজবাড়ীতে এ বছর সুগন্ধি আমন ধানের আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণ। বাম্পার ফলন ও বাজারে এ ধানের চাহিদা বেশি থাকায় লাভও বেশি পাচ্ছেন চাষিরা।
মুখরোচক খাবার তৈরিতে সুগন্ধি এ ধানের কোনো বিকল্প নেই। সিত্রাংয়ে কিছুটা ক্ষতি হলেও ফলন ও বাজারদর বেশির পাশাপাশি রবি মৌসুমে ফসলে প্রণোদনা দেওয়ায় ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানান তারা।
কৃষিনির্ভর রাজবাড়ী জেলার সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা, গোয়ালন্দ ও কালুখালী এ পাঁচ উপজেলায় ধান চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। এ বছর এ অঞ্চলগুলোয় সুগন্ধি আমন ধানের চাষ বেশি হয়েছে। গত বছরের চেয়ে দ্বিগুণ সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছে এ জেলায়।
এর মধ্যে কালিজিরা, বাদশাহভোগ, চিনি আতপ, ব্রি-৩৪ ও ব্রি-৭৫ এ পাঁচ জাতের সুগন্ধি ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৪১১ হেক্টর বেশি জমিতে সুগন্ধি ধানের আবাদ হয়েছে। গত বছর আবাদ হয়েছিল ৫ হাজার ৭৪৪ হেক্টরে, চলতি বছর ১০ হাজার ১৫৫ হেক্টরে।
সাধারণত অন্যান্য ধানের চেয়ে বাজারদর দ্বিগুণের বেশি থাকায় সুগন্ধি জাতের এ ধানগুলোর আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পোলাও, বিরিয়ানি, পায়েস, জর্দা ও বিভিন্ন ধরনের পিঠাজাতীয় মুখরোচক খাবার তৈরিতে সুগন্ধি চালের কোনো বিকল্প নেই। তবে সুগন্ধি জাতের পাশাপাশি আমন ধানের বিভিন্ন জাতের আবাদও বেশি হয়েছে।
গত বছরের চেয়ে এ বছর ২ হাজার হেক্টর বেড়ে ৫২ হাজার হেক্টরে আমন আবাদ হয়েছে। তাই বাজারদর ও ফলনের কারণে সিত্রাংয়ের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে জানান চাষিরা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের ব্রাহ্মণদিয়া গ্রামের সুগন্ধি ধান চাষি আবুল কালাম জানান, তিনি এ বছর ১ বিঘা জমিতে সুগন্ধি জাতের কালিজিরা ও চিনি আতপ ধানের আবাদ করেছেন। সাধারণ আমন ধানের আবাদের চেয়ে খরচ কম ও দাম বেশি হওয়ায় এর আবাদ গত বছরের তুলনায় বেশি করেছেন।
তার মতো ওয়াজ কুরুনি, বাচ্চু তালুকদার, হোসেন আলীসহ আরও কয়েকজন এ ধানের আবাদ করেছেন। সাধারণ আমন ধানের চেয়ে সুগন্ধি ধান ও চালের বাজারদর দ্বিগুণের বেশি হয়। এ ধানের আবাদে খরচ কম, লাভ বেশি। এ কারণে দিন দিন এ ধানের আবাদ বেশি করছেন বলে জানান তারা।
রাজবাড়ী সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. বাহাউদ্দিন সেখ বলেন, রাজবাড়ীতে এ বছর আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কালিজিরা, বাদশাহভোগ, চিনি আতপ ধানের পাশাপাশি ব্রি-৩৪ ও ব্রি-৭৫ জাতের সুগন্ধি আমনের ফলন ও বাজারদর বেশি হওয়ায় কৃষকের মাঝে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবে সিত্রাংয়ের কারণে ধানের কিছুটা ক্ষতি হলেও বাজারদর ভালো থাকায় তা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।
ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সদর উপজেলায় ১৩ হাজারের বেশি কৃষকের মাঝে রবি ফলনের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।