× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল

এক্স-রে মেশিন নষ্ট এক মাস, ভোগান্তি

রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, কুড়িগ্রাম

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৮:৩৪ পিএম

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১৮:৩৯ পিএম

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বন্ধ এক্স-রে রুম। মেশিনটি নষ্ট থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে। প্রবা ফটো

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের বন্ধ এক্স-রে রুম। মেশিনটি নষ্ট থাকায় রোগীদের ভোগান্তি চরমে। প্রবা ফটো

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার লক্ষ্মীকান্ত গ্রামের বাচ্চু মিয়া। দুই ঘণ্টা থেকে অপেক্ষায়। তার স্বজন এলে বাইরে যাবেন এক্স-রে করাতে। কারণ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি অকেজো। হাসপাতালে মেশিন সচল থাকলে ২০০ টাকায় এক্স-রে করতে পারতেন। কিন্তু বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিকে তা করাতে পকেট থেকে নেমে যাবে ৭০০ টাকা। যা ব্যয়ের সামর্থ্য নেই বাচ্চু মিয়ার। তাই নির্ভর করতে হচ্ছে স্বজনদের ওপর। 

শুধু বাচ্চু মিয়াই নন, হাসপাতালেরে অধিকাংশ রোগীরই একই অবস্থা। তাদের কথায়, ‘টাকা-পয়সা নেই’ দেখেই তো সরকারি হাসপাতালে আসি। এখানে যদি সুযোগ না পাই, কম খরচে কিছু পরীক্ষা করাতে না পারি, তাহলে যাব কোথায়?

উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের ৭০ বছরের আব্দুল কাদের। তিনি এসেছেন বুকের সমস্যা নিয়ে। চিকিৎসক এক্স-রে করতে বলেছেন। সঙ্গে আসা নাতনি বলেন, ‘পয়সা নাই তাই আসছি সরকারি হসপিটালে। এখানে এসে দেখি সেবা নাই। সেবা না থাকলে আমরা কোথায় যাব? এখানে এসে লাভ কী?’

ফুলবাড়ীর ভাঙ্গামোড় এলাকায় নারায়ণ দত্ত মেয়ে ও শাশুড়িকে নিয়ে এসেছেন। দুই বছরের মেয়ে ললিতার সর্দি-জ্বর, শাশুড়ি রুপা রানীর শ্বাসকষ্ট। চিকিৎসক দুজনকেই এক্স-রে করতে দিয়েছেন। কিন্তু এক্স-রে মেশিন অকেজো হওয়ায় বিপদে পড়েছেন। নারায়ণ দত্ত বলেন, ‘হাসপাতালে এক্স-রে করালে দুজনের খরচ পড়ত ৪০০ টাকা। কিন্তু এখন দেড় হাজার টাকা দিয়ে বাইরে করতে হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক মাস ধরে অকেজো কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন। হাসপাতালের ইনডোরে গড়ে রোগী থাকে সাড়ে ৪০০। জেলার ৯ উপজেলার ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসার হাসপাতাল। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকটসহ জনবল কম রয়েছে, রয়েছে ওষুধের ঘাটতিও। তাই প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের। এক্স-রে মেশিনটি অকেজো থাকায় ভোগান্তির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ঈদুল আজহার তিন দিন আগে বজ্রপাতের কারণে অকেজো হয়ে পড়ে এক্স-রে মেশিনটি। এক্স-রে রুমের টেকনোলজিস্ট সাবনুর আক্তার জানান, প্রতিদিন ৭০-৮০ জন রোগীর এক্স-রে করতেন। রোগীরা এসে এখন ফিরে যাচ্ছে। বিষয়টি তাদেরও খারাপ লাগছে। কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করছেন তাড়াতাড়ি সমাধান হবে।

হাসপাতালের তত্ত্বাধায়ক শহিদুল্লাহ লিংকন বলেন, ‘বজ্রপাতে ক্ষতি হয়ে যাওয়া মেশিনটি মেরামতের জন্য চিঠি দিয়েছি। আশা করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা