× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ইন্টারনেট বন্ধ

বগুড়ায় আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত ৫ হাজার তরুণ-তরুণী ‘বেকার’

মোহন আখন্দ, বগুড়া অফিস

প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৪ ১২:৫২ পিএম

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় বন্ধ রয়েছে ‘ডিজাইন এক্সপ্রেস’ নামে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান। ছবি : আকতারুজ্জামান সোহাগ

ইন্টারনেট সংযোগ না থাকার কারণে বগুড়ার নিশিন্দারা উপশহর এলাকায় বন্ধ রয়েছে ‘ডিজাইন এক্সপ্রেস’ নামে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান। ছবি : আকতারুজ্জামান সোহাগ

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধ থাকার কারণে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে আউটসোর্সিংয়ে যুক্ত বগুড়ার ৫ হাজার তরুণ-তরুণী। এ কাজে যুক্ত একাধিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা বন্ধের কারণে গত এক সপ্তাহে সাড়ে ১২ কোটি টাকা বা ১০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তারা বলছে, আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি অ্যাকাউন্ট অকার্যকরসহ নানা কারণে স্থায়ীভাবে কাজ হারানোরও শঙ্কায় রয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছে, দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো তো আর হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তারা এখন অন্য দেশের আউটসোর্সারদের কাছে চলে গেছে।

দেশে আউটসোর্সিয়ের কাজ ২০০৮ সালের দিকে শুরু হয়। বগুড়ায় শুরু হয় ২০১০ সালের দিকে। জেলায় আউটসোর্সিংয়ে যুক্তদের মধ্যে অন্তত ২ হাজার নিজস্ব উদ্যোগে  ডেটা এন্ট্রি এবং ওয়েব ডিজাইনের কাজ করে থাকে। এর বাইরে শহরে গড়ে ওঠা ৫০টিরও বেশি আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আরও ৩ হাজার তরুণ-তরুণী। এসব প্রতিষ্ঠানে সাধারণত বিদেশিদের চাহিদা অনুযায়ী ওয়েব ও গ্রাফিক্স ডিজাইনের পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করে থাকে।

মূলত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মাধ্যমেই আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো করা হয়। তবে এবারের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সহিংসতা ঘিরে গত ১৭ জুলাই বুধবার রাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ হয়ে যায়। তার পরদিন ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। এই সেবা বন্ধ হওয়ার পর পরই বগুড়ার আউটসোর্সিংয়ের কাজগুলো বন্ধ হয়ে যায়। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের কয়েকটি জেলায় সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড চালু হলেও বগুড়ায় এখনও বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে তরুণ-তরুণীরা হাত গুটিয়ে বসে আছে। অনেকে কাজ হারানোর দুশ্চিন্তায় রয়েছে। 

জানা গেছে, নিজস্ব উদ্যোগে প্রায় দুই হাজার আউটসোর্সার দিনে গড়ে ৪৫ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রায় ৫ হাজার টাকা আয় করে থাকে। আর যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করেÑ এমন প্রায় তিন হাজার আউসোর্সার ১৫ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ প্রায় ৭০০ টাকা আয় করে থাকে। অর্থাৎ ৫ হাজার তরুণ-তরুণী এক সপ্তাহে সাড়ে ৮ কোটি টাকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো দিনে ১ হাজার মার্কিন ডলার করে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা টাকা আয় করে থাকে। এই হিসাবে গত ৭ দিনে ৪ কোটি টাকার বেশি আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হয়নি (১১৫ টাকা প্রতি ডলার হিসাবে) সাড়ে ১২ কোটি টাকা বা ১০ লাখ ডলারের বেশি। 

আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্তরা বলছে, যারা নিজস্ব উদ্যোগে কাজ করে তারা সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করে। আর যারা বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত তারা সপ্তাহে দুই দিন শনি ও রবিবার বাদে পাঁচ দিন কাজ করে। বগুড়ার এ পেশায় যুক্তদের বেশিরভাগই সপ্তাহের সাত দিন কাজ করে। তারা বলছে, এক সপ্তাহ ধরে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজ হারানোর শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। 

প্রায় দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বগুড়ায় আউটসোর্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত এমএকে আবেদীন সনি নামে এক তরুণ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আরও ৪টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। প্রতিদিনের বাংলাদেশের কাছে সেই কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, এক. সময়মতো কাজ জমা দিতে না পরায় রেটিং কমে যাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে অনেকেই আর কাজ পাবেন না। দুই. যারা বিপিও বিজনেসের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদেরকে প্রতিনিয়ত ক্লায়েন্টদের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়। সে ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে তাদের সঙ্গে ক্লায়েন্টদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তিন. অনেক ফ্রিল্যান্সার বিভিন্ন সার্ভিসের বিল পরিশোধ করতে পারছে না। এর ফলে ক্লায়েন্টদের ক্ষতি হয়ে যাবে। তাতে তিনি কাজ হারাতে পারেন আর চার নম্বর কারণ হলোÑ যারা সার্ভার ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রতি নিয়ত সার্ভার আপ আছে কি না, সিকিউরিটি চেক, সার্ভার লোড ডিস্ট্রিবিউশন দেখতে হয়। মিলিয়ন-বিলিয়ন ডলার কোম্পানির অনলাইন সার্ভিসের দায়িত্ব তাদের হাতে থাকে। যেসব দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকে কোম্পানিগুলো সেসব দেশে কাজ দিতে চাইবে না। 

এক প্রশ্নের জবাবে এমএকে আবেদীন সনি বলেন, অতীতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ইন্টারনেট বন্ধ অথবা ধীরগতির ছিল। তখন ক্লায়েন্টরা সেটি মেনে নিয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে একনাগাড়ে কয়েকদিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার ব্যাপারটা বিশ্ব সহজভাবে নেবে না। কেউই চইবে না তাদের কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের ফ্রি ল্যান্সারদের জন্য আটকে থাকুক।

বগুড়ার উপ-শহর এলাকার আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ‘ডিজাইন এক্সপ্রেস’-এর কর্ণধার ইউনুস আলী তালুকদার বলেন, তার প্রতিাষ্ঠানে পার্টটাইম এবং ফুলটাইম ভিত্তিতে ৫০ জন কাজ করে। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে সেই কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতির কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা গিগ বেজড এবং ক্লায়েন্টবেজড কাজ করে তাদের ক্ষতি বেশি। এছাড়া যারা স্টক সেল বেজড কাজ করে নতুন কাজ না পাওয়ার কারণে তাদের ৩০ শতাংশ সেল কমে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক ক্লায়েন্টের কাছে ডিজাইন দিয়ে রেখেছি। তারা সেটি দেখে বারবার রিকোয়েস্ট পাঠাচ্ছে। কিন্তু নেট বন্ধ থাকার কারণে আমরা তো তার কোনো জবাব দিতে পারছি না। ফলে তারা এখন অন্য দেশে চলে যাবে। এছাড়া নেট বন্ধ থাকার কারণে আপ-ওয়ার্ক অর্থাৎ যারা মার্কেট প্লেস ভোটিং সিস্টেম থেকে দূরে চলে গেছে তারা আগামীতে আর কাজ পাবে না। তাদের অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে ডিজঅ্যাবল বা অকার্যকর হয়ে যাবে। কারণ একজন নিজের তথ্য দিয়ে একবারের বেশি অ্যাকাউন্ট করতে পারে না।’

ডিজাইন এক্সপ্রেস নামে ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শাহাদৎ হোসেন এবং নাহিদা আকতার জানায়, তারা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ টাকা আয় করে। কিন্তু ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় সে আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ওই প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম কাজ করা বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র আয়নাল হক জানান, তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি আউটসোর্সিং করে ভালোই রোজগার করতেন। কিন্তু সেটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। শহরের শিববাটি এলাকার ফয়সাল করিম খাঁ জানান, তিনি এবং তার স্ত্রী আউটসোর্সিং করে যে টাকা পান তা দিয়ে সংসার চলে। ৭ দিন ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দ্রুত সংযোগ চালু করা না হলে তার মতো অনেকের সংসার চালানো কষ্ট হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা