বামনা (বরগুনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৪ জুলাই ২০২৪ ২১:২৪ পিএম
আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪ ২১:৪৯ পিএম
বামনায় নির্মাণাধীন মডেল মসজিদসংলগ্ন ময়লা-আবর্জনার স্তূপ।
বরগুনার বামনা উপজেলা শহরে ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই। শহরের জনবহুল বিভিন্ন রাস্তার পাশ এখন ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার না করায় পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদের সামনেই নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের বাউন্ডারি ঘেঁষে আবর্জনার স্তূপ। এতে বেড়েছে মশা-মাছির চরম উপদ্রব। সাহেববাড়ী বাজারের বিভিন্ন দোকানের বর্জ্য, বাসাবাড়ির বর্জ্যসহ বাজারের সকল বর্জ্য এখানে ফেলা হয়। যার কারণে ক্রেতা, বিক্রেতা ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এর পাশেই রয়েছেÑ সৈয়দ রহমত আলী স্টেডিয়াম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবন, বামনা প্রেস ক্লাব, সরকারি সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি কিন্ডারগার্টেন মাদ্রাসা, উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন অফিস। পথ দিয়ে যাতায়াতকারী স্কুলের শিশুশিক্ষার্থী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।
শুধু মডেল মসজিদের সামনেই নয়, শহরের প্রধান সড়কগুলোও ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। যত্রতত্র খোলা স্থানে রাস্তাজুড়ে ময়লার স্তূপ হওয়ায় এবং ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ায় যান চলাচলসহ লোকজনের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে, জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় দিনের পর দিন ময়লা-আবর্জনা থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। ময়লা থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে চারপাশের পরিবেশ বিষিয়ে উঠেছে। ফলে জনভোগান্তি দেখা দিয়েছে পুরো শহরে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতি বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষ নির্বিকার থাকায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বামনা ইউপি সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী ওমর ফারুক বলেন, ‘বামনা বাজারে সামান্য ময়লা ফেলার ডাস্টবিনও নেই। যে কারণে যেখানে সেখানে আবর্জনা ফেলতে হয়। এতে শহরের অধিকাংশ রাস্তাই আজ যেন ডাস্টবিন। চলাচলে দুর্বিষহ ভোগান্তি আর দুর্গন্ধে দম আটকানোর অবস্থা।’
উপজেলা পরিষদ রোডের আরেক ব্যবসায়ী রাজু শিকদার বলেন, ‘মডেল মসজিদের সামনে থেকে আবর্জনার স্তূপটা সরানো হোক। অতি দ্রুত স্থায়ী ডাস্টবিন বানানো হোক।’
সাহেববাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘বাজারের জায়গায় জায়গায় ময়লার স্তূপ। নোংরা ময়লা-আবর্জনায় ভরা পুরো বাজার এলাকা। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না চালানোয় উৎকট গন্ধে টেকা দায়। তার মধ্যেই চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। রাস্তায় রাস্তায় ময়লার ভাগাড়, ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরা। সময়মতো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেই। আমরা ময়লার দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণ চাই।’
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, অন্যান্য বাজারের মতো এ বাজার এলাকায় ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান (ডাস্টবিন) নেই। এ কারণে ব্যবসায়ীরা যে যেখানে পারছে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। এগুলো সঠিকভাবে পরিষ্কার করা হয় না। ফলে এগুলো পচে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
বামনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাসির মোল্লা বলেন, ‘প্রেস ক্লাবের সামনেই নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের পাশে আবর্জনার স্তূপ গড়ে উঠেছে। বামনায় বাজার কমিটি না থাকলেও ব্যবসায়ী কমিটি আছে। বাজারের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার দায়িত্ব তাদের। কিন্তু বাজার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যাপারে তারাও উদাসীন। উপজেলা প্রশাসনের কাছে অতিসত্ত্বর একটি স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণ করে বর্জ্য অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’
বামনা সদর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান চৌধুরী কামরুজ্জামান সগীর বলেন, ‘বামনায় বর্জ্য অপসারণে স্থায়ী ব্যবস্থার পরিকল্পনা রয়েছে। জায়গা নির্ধারণের জন্য কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে তাড়াতাড়ি প্রকল্পের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে এ সমস্যা নিরসন করতে পারব।’
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে কেবল দায়িত্ব শুরু করেছি। তাই এখনও সব বিষয়ে জানা নেই। তবে বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান বলেন, ‘স্থায়ী ডাস্টবিন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করি, শিগগিরই একটি স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করতে পারব।’