রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪ ২২:৪৪ পিএম
কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারকে কয়েক বছর পর হঠাৎ দলীয় সভায় অংশ নিতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে দলীয় সভায় তারা এক কাতারে বসে নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করেন। দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এতদিন তারা একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন। এমনকি এতদিন দলীয় কর্মসূচিতেও তাদের একসাথে দেখা যায়নি।
মঙ্গলবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটাবিরোধী সাধারণ শিক্ষার্থীদের তাড়া খেয়ে ক্যাম্পাস ছাড়ে ছাত্রলীগ। এর পর সন্ধ্যায় রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় থেকে ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও যুবলীগ বিশাল মিছিল বের করে জিরো পয়েন্ট হয়ে রাজশাহী কলেজের দিকে অগ্রসর হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা দেশীয় ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে। মিছিল দেখে পুরো সাহেববাজারে সকল দোকানপাট বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা। এসময় একাধিক ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং একটি অবিস্ফোরিত ককটেল আরডিএ মার্কেটের পশ্চিমে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে বোয়ালিয়া থানার পুলিশ গিয়ে ওই ককটেলটি উদ্ধার করে।
মিছিলটি রাজশাহী কলেজের প্রধান ফটক প্রদক্ষিণ শেষে আবারও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। এরপর দলীয় কার্যালয়ের সভাকক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, সহসভাপতি শফিকুর রহমান বাদশা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক আসলাম সরকারসহ দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ। ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ তাদের করণীয় নির্ধারণ করে এই সভায়।
এদিকে দীর্ঘ প্রায় চার বছর ধরে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকারের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছে। এই সময়ের মাঝে তাদের পাশাপাশি বসতে বা দলীয় সভায় দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলোতেও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পৃথক কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তবে সম্প্রতি কোটাবিরোধী আন্দোলনের মুখে এই দুই নেতাকে দলের স্বার্থে এক টেবিলে বসতে দেখে অনেকেই যেমন আনন্দিত হয়েছেন, তেমনি আবার দলের অনেকেই বিষয়টিকে সমালোচনার দিকে নিয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর আওয়ামী লীগের দুজন পদধারী নেতা জানান, আওয়ামী লীগ একটি বৃহৎ সংগঠন। এখানে নেতায় নেতায় মনোমালিন্য থাকতেই পারে। তবে নেতারা দলের স্বার্থে এক কাতারে বসতে পারেন- এটা তার বড় উদাহরণ।