সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে কম্পিউটারের দোকানে টাকা দিলেই চাহিদা রক্ত পরীক্ষার জাল সনদ বানিয়ে দিচ্ছেন দোকাদার। প্রবা ফটো
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে কম্পিউটারের দোকানে টাকা দিলেই চাহিদা রক্ত পরীক্ষার জাল সনদ বানিয়ে দিচ্ছেন দোকাদার। সেই সনদ আবার দি ঢাকা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাড বানিয়ে প্রিন্ট করে দেওয়া হচ্ছে। তাতে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মী ও একজন ডাক্তারের সীল এবং স্বাক্ষরও নকল করা হয়েছে। এমন একটি জাল সনদ ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষের হাতে আসলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র বানাতে বাধ্যতামূলক রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে হয়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে অসাধু দোকানদারা টাকার বিনিময়ে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা না করেই টেস্ট রিপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে। কারও আবার আইডি কার্ড পাসপোর্ট বানানোর কথা বলে হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। সেইসঙ্গে টিকা না দিয়েও টাকার বিনিময়ে বানিয়ে দিচ্ছে করোনার সনদ।
এমনই একজন উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের নিলাম্বপট্টি গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম। তিনি বিদেশে পাড়ি দিবেন। তবে তার জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় দাড়স্থ হন সিঙ্গাইর উপজেলার সামনে ফাতেমা স্টুডিওতে। স্টুডিওর মালিক রতনের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্ট বানিয়ে দিতে ২৪ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। কাজ শুরু করলে ইউপি সদস্য (৬ নম্বর ওয়ার্ড) দীন ইসলামের সই আনতে গেলে জাল সনদ ভেবে আটকে দেয়। রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার সনদ পৌঁছে যায় হাসাপাতালে।
পরে দি ঢাকা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আরিফুর রহমান আইয়ুব জাল সনদের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
একই গ্রামের ফজল মিয়া বলেন, ‘আমার ছেলে বিদেশে যাওয়ার সময় ৮০০ টাকার বিনিময়ে রতন দোকানদার করোনা সনদ বানিয়ে দিয়েছে।’
এ বিষয়ে দি ঢাকা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জানান, আমাদের প্যাড নকল করে রক্ত পরীক্ষার জাল সনদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের এখানে এই নামে কারও রক্ত পরীক্ষা করা হয়নি । কে বা কারা আমাদের প্যাড স্ক্যান করে রিপোর্ট বানিয়ে দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিব।
ভুক্তভোগি ইব্রহিম বলেন, ‘স্টুডিওর মালিক রতনের সঙ্গে পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র জন্য ২৪ হাজার চুক্তি হয়। আমি শুধু একটা জন্ম নিবন্ধন দিয়েছিলাম। বাকী কাগজপত্র তিনি বানিয়ে দিবেন বলে চুক্তি হয়। আমি কোনো রক্তের গ্রুপ পরীক্ষার সনদ দেয়নি। কোথা থেকে কীভাবে রক্ত গ্রুপ পরীক্ষার সনদ তৈরি করেছে তা আমি জানিনা।’
এমন অভিযোগের বিষয়ে ফাতেমা স্টুডিও মালিক মোহাম্মদ রতন মোল্লা কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমি কোনো জাল রিপোর্ট বানানোর কাজ করি নাই। আমার দোকানে শুধু পাসপোর্ট ও আইডি কার্ডের আবেদন করা হয়।’
সিঙ্গাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তাসনুবা মারিয়া বলেন, ‘এ বিষয় কোনো অভিযোগ পায়নি, তবে প্রমাণ পাওয়া গেলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ আইনগত সহায়তা চাইলে তাকেও সহযোগিতা করা হবে।’