রবার্ট মোরেলের স্মৃতিস্তম্ভ
এম পলাশ শরীফ, মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট)
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৪ ১৩:৩০ পিএম
আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৪ ১৪:৩১ পিএম
মোরেলগঞ্জে রবার্ট মোরেলের স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কার শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। প্রবা ফটো
ইংরেজ নীলকর রবার্ট মোরেলের নামানুসারে প্রতিষ্ঠিত বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে রবার্ট মোরেলের স্মৃতিস্তম্ভ অবশেষে দেড়শ বছর পর হলেও সংস্কারের কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন প্রজন্মের কাছে স্মৃতিস্তম্ভটি দৃশ্যমান রাখার জন্যই এ উদ্যোগ।
কুঠিবাড়িতে রবাট মোরেলের শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত সেই প্রাচীনতম ভবনগুলো আজ অযত্ন-অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। পানগুছি নদীর অব্যাহত ভাঙনে অনেক স্মৃতিই হারিয়ে গেছে নদীতে। ১৮৬৮ সালে নির্মিত অম্বিকা চরণ লাহা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়-সংলগ্ন রবাট মোরেলের স্মৃতিস্তম্ভটি ১৫২ বছর পর সংস্কার করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ১৮৪৯ সালে ব্রিটিশ শাসনামলের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রতিনিধি রবার্ট মোরেলের মৃত্যু হলে স্ত্রী মিসেস মোরেল তার দুই ছেলে রবার্ট মোরেল ও হেনরি মোরেলকে নিয়ে বসতি স্থাপন করেন পানগুছি নদীর পশ্চিমপাড়ে কুঠিবাড়ি এলাকায়। তখন সুন্দরবনের জমি বন্দোবস্ত নিয়ে শুরু করেন নীল চাষ। বাগেরহাট তখন মহকুমা হয়নি। যশোর জেলার অন্তর্গত ছিল এ সাবডিবিশন। এর বৃহৎ অংশজুড়ে ছিল সুন্দরবন।
মিসেস মোরেল বরিশাল থেকে লোকজন নিয়ে এসে বন কেটে গড়ে তোলেন বিশাল আবাসস্থল ও কুঠিবাড়ি। পরবর্তীতে বরিশাল মহকুমা থেকে আসা লোকজনই এই এলাকায় থেকে তাদের বসতি গড়ে তোলে এবং তারাই হয় তাদের প্রজা। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবকে দমন করে ইংরেজ শাসকরা এদেশে তাদের শাসন দৃঢ় করার লক্ষ্যে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তার মধ্যে এই কুঠিভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা ছিল অন্যতম। এরই অংশ হিসেবে এখানে গড়ে তোলা হয় কুঠিবাড়ি। এ কুঠিবাড়ির তলদেশে নির্মিত হয় অশ্বশালা। গোপন সুড়ঙ্গসিঁড়ি দিয়ে সরাসরি নামা যেত অশ্বশালায়।
এছাড়া কুঠিবাড়ির অভ্যন্তরে আনন্দ কক্ষ বা নাচঘর, গুদামঘর, নির্যাতন কক্ষ ও লাঠিয়াল বাহিনীর জন্য পৃথক কক্ষ ছিল। মূল এই ভবনটির পাশে ছিল খাজনা আদায়ের কাচারিঘর। অবাধ্য শ্রমিকদের বেঁধে রাখা ও কৃষিকাজে ব্যবহৃত মালামাল রাখার ঘর। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগারসহ বন্য প্রাণীর হাত থেকে রক্ষা পেতে কুঠিবাড়ির চতুর্দিকে উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। ওই সময় অত্র এলাকার মূল শাসকের দায়িত্ব পালন করেন রবার্ট মোরেল। তার নাম লেখা হতো দ্বিতীয় অ্যাডমন্টন রয়েল মিডেলসেক্স মিলিশিয়া রাইফল পল্টনের কাপ্তান রবার্ট মোরেল।
মোরেলগঞ্জ থেকে ১৮৭৮ সালে শাসন গুটাতে হয় তাদের। তবে কালের সাক্ষী হয়ে এখনও রয়ে গেছে কুঠিবাড়ি নামে পরিচিত মোরেলদের নীলকুঠি। মোরেল পরিবারের বিদায়ের শেষদিকে মোরেলের ভক্ত ও অনুসারীরা কুঠিবাড়ির অদূরে নির্মাণ করেন মোরেলের স্মৃতিস্তম্ভ। স্তম্ভটি এখনও আছে, যা এই প্রথম সংস্কার করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এ সম্পর্কে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম তারেক সুলতান বলেন, কুঠিবাড়ির প্রাচীনতম ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে লিখিতভাবে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে যার, পরিপ্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।