সাভার (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২২:৪৯ পিএম
অভিযুক্ত এসআই জহুরুল ইসলাম। প্রবা ফটো
ব্যবসায়িক দ্বন্দ্বের জেরে হাতাহাতির ঘটনায় আটককৃত এক যুবককে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও আটকের সময় ওই যুবকের কাছে থাকা ৭১ হাজার টাকা নিয়ে পরে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি।
ভুক্তভোগী যুবকের নাম পারভেজ হোসেন (৩৫)। তিনি আমিনবাজার এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত এসআইয়ের নাম জহুরুল ইসলাম। তিনি সাভার মডেল থানায় কর্মরত রয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পারভেজ, সাইফুল ও ইমন তিনজন ব্যবসায়িক অংশীদার। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব থাকলেও তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্ততায় তা সমাধান হয়। তবে সমাধানে পারভেজ সন্তুষ্ট না হওয়ায় গত শনিবার রাতে তিনি আমিনবাজারের মানিকনগর এলাকায় ইমনকে মারধরের চেষ্টা করেন। এ সময় ইমন পুলিশের সোর্স সোহেল রানার কাছে সাহায্য চেয়ে ফোন করেন। পরে রাত আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে এসআই জহুরুলসহ কয়েকজন এসে পারভেজকে আটক করেন। এ সময় পারভেজ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে তার কাছ থেকে কোনো ধরনের মাদক পাওয়া যায়নি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
পারভেজ খন্দকারের স্ত্রী লাইজু আক্তার বলেন, আমার স্বামীর সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব হলে অন্য একজনের সহযোগিতায় মীমাংসা হয়। এক পার্টনার শত্রুতা করে আমার স্বামীকে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। এ সময় তার কাছে থাকা ৭১ হাজার টাকা নিয়ে যায় সাভার মডেল থানার এসআই জহুরুল ইসলাম। তাকে অনুরোধ করলে ৪০ হাজার টাকা ফেরত দেয়। আটকের সময় পারভেজের কাছে কোনো মাদক পাওয়া না গেলেও তাকে ইয়াবা দিয়ে মামলা দেয় এসআই জহুরুল।
ব্যবসায়িক অংশীদার ইমন বলেন, শনিবার রাত ১২টার দিকে পারভেজ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় আমি পুলিশে ফোন দিলে তারা পারভেজকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছে কোনো মাদক ছিল না। পুলিশও কোনো মাদক দেখাতে পারে নাই। পারভেজের কাছে টাকা ছিল সেগুলো পুলিশ নিয়ে নেয়।
সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক এসআই জহিরুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতে আমিনবাজার এলাকা থেকে পারভেজকে ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। সে মদ্যপ অবস্থায় ছিল, তার কাছে যা টাকা ছিল সবই তার স্ত্রীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থলে একাধিক ব্যক্তি উপস্থিত থাকলেও সাক্ষী না রাখার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের নিরপেক্ষ মনে হয়নি। এমনকি যাকে বাঁচাতে গেছেন তাকেও নিরপেক্ষ মনে হয়নি বলে জানান তিনি। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করে এসআই জহুরুল ইসলাম সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবদুল্লাহিল কাফি বলেন, মাদক মামলা হয়েছে কি না আমার জানা নেই। বিষয়টি জানার চেষ্টা করছি।