বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি
ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২১:৩২ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ২১:৩৬ পিএম
ফুলবাড়ীর বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি এলাকায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে মানববন্ধন। সোমবার বড়পুকুরিয়া বাজারে। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিসংলগ্ন হামিদপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ক্ষতিপূরণের নামে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। মানববন্ধন থেকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে খনি এলাকা ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৫ জুলাই) সকাল ১১টায় জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উদ্যোগে বড়পুকুরিয়া বাজারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুই সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।
জীবন ও সম্পদ রক্ষা কমিটির উপদেষ্টা ও হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক, উপদেষ্টা লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান, আব্দুল কাদের, লিয়াকত আলী, রুহুল আমিন মণ্ডল প্রমুখ মানববন্ধনে বক্তব্য দেন।
সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভূগর্ভে মাইন বিস্ফোরণের কারণে বিকট শব্দ ও কম্পনে হামিদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া, বাঁশপুকুর, মথুরাপুর, বৈদ্যনাথপুর, শিবকৃষ্ণপুর, পাতিগ্রাম, পাঁচঘরিয়া, চৌহাটি, কালুপাড়া, গোপালপাড়া, কাশিয়াডাঙ্গা, বৈগ্রামসহ ১২ গ্রামের প্রায় ১০ হাজার ৪০০ ঘরবাড়িতে ফাটল ধরছে। অনেক ঘরবাড়ি ভেঙে পড়ছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে। আমরা ক্ষতিপূরণের জন্য আন্দোলন করেও সুরাহা পাচ্ছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে ছয় দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিতে সার্ভেকৃত বসতবাড়ির ক্ষতিপূরণের টাকা দ্রুত প্রদান, মসজিদ, কবরস্থানসহ অধিগ্রহণকৃত জমির বকেয়া পরিশোধ, জনসাধারণের চলাচলের জন্য বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত রাস্তাটি পাকাকরণ, সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি, কয়লাখনি কর্তৃক সৃষ্ট পানীয় জলের সংকট দ্রুত নিরসন, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা বসবাসের অযোগ্য বসতবাড়ি ও স্থাপনার স্থায়ী সমাধান করার দাবি ছিল। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন না করা হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ১০ হাজার ৪০০ পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে খনির ফটকগুলো ঘেরাও করা হবে।’
হামিদপুর ইউপি চেয়ারম্যান রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘খনির কারণে প্রায় এক যুগ ধরে ১২টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো সার্ভে করার পরেও কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নামে টালবাহানা অব্যাহত রেখেছে। তাদের বারবার বিষয়টি অবগত করলেও আমলে নিচ্ছে না। বিষয়টি দিনাজপুর জেলা প্রশাসককেও অবগত করা হয়েছে। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানাচ্ছি। আমি গ্রামবাসীদের আন্দোলনের সঙ্গে আছি।’
জানতে চাইলে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘খনির ভূগর্ভ থেকে কয়লা উত্তোলনের ফলে আশপাশের এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়ে থাকে। এতে স্থানীয় কিছু ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দিতে পারে। তবে দুর্বল নির্মাণকাজের ঘরবাড়িতে ফাটল বেশি দেখা দিয়ে থাকে। স্থানীয় কিছু ঘরবাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় ক্ষতিপূরণ প্রদানের লক্ষ্যে সার্ভে কমিটি করা হয়েছে। কমিটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে গিয়ে তালিকা করেছে। তালিকা চূড়ান্ত করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।’