ফেনীতে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪ ১৪:৪০ পিএম
নিহত গরু ব্যবসায়ী শাহজালাল। ছবি: সংগৃহীত
ফেনী শহরের সুলতানপুরে গরু ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যা মামলার তিন বছর আজ সোমবার (১৫ জুলাই)। আলোচিত এ হত্যা মামলার দুই দফা সাক্ষগ্রহণের তারিখ পার হলেও সাক্ষীরা না আসায় বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দিচ্ছে। মামলার তিন আসামি সবাই জামিনে বের হয়েছে। প্রধান আসামি বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম ইতোমধ্যে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর পদ ফিরে পেলেও দায়িত্ব বুঝে পাননি।
এলাকাবাসী, পুলিশ, চিকিৎসকসহ ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এ বছরের ২৪ মার্চ থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও সাক্ষীরা উপস্থিত হয়নি। এরপর ২১ মে পরবর্তী তারিখেও কোনো সাক্ষী না আসায় সোমবার (১৫ জুলাই) পরবর্তী তারিখ ঘোষণা করেন আদালত।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৪ মার্চ জেলা ও দায়রা জজ আবু সালেহ মোহাম্মদ রুহুল ইমরানের আদালতে মামলাটির চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচার কাজ শুরু হয়। ২০২১ সালে ১৫ জুলাই কিশোরগঞ্জের ব্যবসায়ী শাহজালালকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কর্মকর্তা ও ফেনী মডেল থানার তৎকালীন ওসি (তদন্ত) আবদুর রহিম সরকার চার্জশিটে এজাহারভুক্ত আসামি কাউন্সিলর আবুল কালাম, তার সহযোগী নাঈমুল হাসান ও আশরাফ উদ্দিন রাজুকে অভিযুক্ত করেন।
সূত্র আরও জানায়, এ মামলায় অভিযুক্ত নাঈমের স্বীকারোক্তি ছাড়াও আরও তিনজন সাক্ষী আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।২০২৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর কালাম, ২০২২ সালের ১৬ মার্চ রাজু ও একই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নাঈম উচ্চ আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পায়। আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এম শাহজাহান সাজু, জাহাঙ্গীর আলম নান্টু ও শৈবাল দত্ত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পাবলিক প্রসিকিউটর হাফেজ আহাম্মদ বলেন, সাক্ষীদের হাজির করতে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। তারা না আসায় সাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্ব হচ্ছে। মামলাটি অতিদ্রুত নিষ্পত্তি করতে তিনি সবধরনের সহযোগিতা করবেন।
এদিকে চলতি বছরের ৬ মার্চ স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-১ শাখার উপ-সচিব মো. আব্দুর রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে কাউন্সিলর পদ ফিরে পান কালাম।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ১৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে গরুর হাটের জন্য ট্রাক ভর্তি করে ১৫টি গরু নিয়ে সুলতানপুর আমিন বাজার সড়কে এলে শাহজালালকে গুলি করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় আবুল কালাম। তাৎক্ষণিক পুলিশ কালামের ঘর থেকে রক্তমাখা পাঞ্জাবি ও ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন। নিহত শাহজালাল কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার সুতারপাড়া ইউনিয়নের শাহাগুলি (শাগলি) ফকির বাড়ির আবদুল জাব্বারের ছেলে। ঘটনার পর কালামকে ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়। দীর্ঘ ১ বছর ৮ মাস পলাতক থেকে ২০২৩ সালের ১৪ মার্চ কালাম আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।