শেরপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২২:৪৭ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ২২:৫৫ পিএম
ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন। প্রবা ফটো
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার শিক্ষা অফিসে ঢুকে ডকুমেন্ট ছিনিয়ে নিয়েছেন ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এক সহযোগী। ঘটনাটি ঘটেছে গত ১ জুলাই বিকালে। তদন্তে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমিটি করে দিয়েছেন। প্রতিবেদনে প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পেলেও শুক্রবার (১২ জুলাই) পর্যন্ত দোষীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
সূত্রমতে, ডকুমেন্টটি ছিল সদর ইউনিয়নের পাইকুড়া এআরপি উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচনের রেজল্যুশন। ঘটনার তিন-চার ঘণ্টা আগে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরে শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে রেজল্যুশন লেখার সময় ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সভাপতি পদে নির্বাচনে আলমগীর হোসেন বিজয়ী হয়েছেন’– এই কথাটা লেখা বাকি। এমন সময় চেয়ারম্যান কক্ষে প্রবেশ করে জানতে চান, নির্বাচন কি শেষ হয়েছে? আমি বললাম জি শেষ হয়েছে, এখন রেজল্যুশন লেখা হচ্ছে। তার সঙ্গে কথা বলতে বলতেই হঠাৎই দেখি খাতাটা চেয়ারম্যানের সঙ্গে আসা ছেলেটির হাতে। তারা খাতাটি নিয়ে চলে যান।’
খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা স্বীকার করে শাহাদত বলেন, ‘নির্বাচন কণ্ঠভোটে না নিয়ে গোপনে কেন করা হয়েছে? নির্বাচনে অনিয়ম করায় আমি রেজল্যুশন খাতা নিয়ে আমার কাছে রেখেছি।’
এ ব্যাপারে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ‘সভাপতি পদে দুজনের নাম প্রস্তাব আসায় কণ্ঠভোটের সুযোগ ছিল না। ফলে নয়জন সদস্যের হাতে ব্যালট বুঝিয়ে দিয়ে পাশের কক্ষে গোপনে ভোট দিতে বলি। তারা সেভাবেই ভোট দেন। পরে সবার সামনে ভোট গণনা করি।’
বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচিত সদস্যদের প্রথম সভার দিন শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে সভাপতি পদে নির্বাচন হয়। প্রার্থী ছিলেন শাহাদত হোসেনের স্ত্রী নিলুফা আক্তার এবং আলমগীর হোসেন। সর্বোচ্চ পাঁচ ভোট পেয়ে আলমগীর হোসেন নির্বাচিত হন। চার ভোট পেয়ে পরাজিত হন নিলুফা আক্তার। পরে খাতায় রেজল্যুশন লিখে উপস্থিত সদস্যদের সই নেওয়া হয়।
অনুসন্ধনে উঠে এসেছে– স্ত্রী হেরে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হন শাহাদত। এর জেরে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশে ফুপাতো ভাই মুকুল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে রেজল্যুশন খাতা ছিনিয়ে নিয়েছেন তিনি। খাতা ফেরত না দিয়ে স্থানীয় এমপি, ইউএনওসহ নানা স্থানে তদবির করে যাচ্ছেন শাহাদত। খাতা উদ্ধারে উপজেলা প্রশাসনও উদ্যোগ নেয়নি। প্রশাসনের তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের সহপ্রধান শিক্ষক ও একজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুটি পদে নিয়োগ বাণিজ্য করতে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।
রেজল্যুশন খাতা উদ্ধার এবং লিখিত ফলাফল চেয়ে ইউএনওর কাছে এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিজয়ী প্রার্থী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘সদস্যদের ভোটে আমি বিজয়ী হয়েছি। রেজল্যুশন খাতা ছিনতাইয়ের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের পরামর্শে থানা এবং ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ঘটনাটি এমপি অবগত আছেন। এক সপ্তাহ হয়ে গেল, কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।’
অফিস কক্ষে ঢুকে রেজল্যুশন খাতা ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানা-প্রশাসনের কাছে বিজয়ী প্রার্থীর লিখিত অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহাদত বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের স্কুল, আমি বুঝব। আলমগীর এখানে কে। হ্যাঁ, খাতা আমার কাছে আছে। এটা আমি আর অফিস বুঝব।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘আমি লিখিত জবাব দিয়েছি। এ বিষয়ে এমপি সাহেব যা বলবেন তা-ই করব। আমার কোনো ক্ষমতা নেই।’
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রাথমিক সত্যতার প্রমাণ পেয়ে রেজল্যুশন খাতা উদ্ধারে কী ব্যবস্থা নিয়েছেনÑ এ প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে ইউএনও আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।