বাগেরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ২২:৩৬ পিএম
বাগেরহাটে রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত এক কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করে দিয়েছেন সাইফুজ্জামান নামে এক ব্যবসায়ী। গত ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় রেমালে রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ-বড়দিয়া-কাটাখালী গ্রামের চার কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের রাস্তাটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এক কিলোমিটারে বেশি রাস্তা।
প্রায় এক মাস ধরে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এলাকাবাসীর ভোগান্তি দেখে এগিয়ে আসেন ব্যবসায়ী সাইফুজ্জামান। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে ২২ শ্রমিক নিয়ে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেন। দাউদখালী নদীর পাড়ে এবং পাইলিং করে জিও ব্যাগ ফেলে রাস্তার সংস্কার করা হয়। বর্তমান ওই সড়ক ব্যবহারের উপযোগী হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর শেখ বলেন, এই রাস্তা দিয়ে ভ্যানগাড়ি চালিয়ে আমার জীবিকা নির্বাহ করি। ঘূর্ণিঝড় রেমালে রাস্তাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমার গাড়ি চালানো বন্ধ ছিল। আয় বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসায়ী সাইফুজ্জামান ভাইয়ের কাছে বললে সবার কথা চিন্তা করে রাস্তাটি মেরামত করে দেন। আমরা এখন যাত্রী নিয়ে ভ্যান চালাতে পারছি। রাস্তা করে দেওয়ায় খুশি হয়েছি। তার জন্য দোয়া করি।
মাহফুজ শেখ বলেন, বড়দিয়া রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করত। ঘূর্ণিঝড় রেমালের তাণ্ডবে আমাদের গ্রামের একমাত্র চলাচলের রাস্তা নষ্ট হয়ে যায়। যানবাহন থেকে শুরু করে পথচারীদের চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে ব্যক্তি উদ্যোগে সংস্কার করায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হয়েছে।
স্থানীয় বড়দিয়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ মনির হোসেন বলেন, এই গ্রামে শতাধিক পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পোল্ট্রি ফার্মের খাবার, কেউ অসুস্থ হলে যানবাহনে হাসপাতালে নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া আশ্রয়ণের ১২৩টি পরিবারের সদস্যদের জীবন-জীবিকার জন্য বিভিন্ন এলাকায় কাজে যাওয়া-আসায় মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়। তাদের কথা চিন্তা করে নিজ অর্থায়নে সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ করে রাস্তা সংস্কারের উদ্যাগ নেন মেসার্স জামান ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সমাজসেবক শেখ সাইফুজ্জামান। তার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
ব্যবসায়ী শেখ সাইফুজ্জামান বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালে আমাদের গ্রামের সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যায়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যোগাযোগ করি। তারা জানান রাস্তা সংস্কার করতে সরকারিভাবে বরাদ্দ প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে অনেকটা সময়ের ব্যাপার। রাস্তাটি দাউদখালী নদীসংলগ্ন হওয়ায় যেকোনো সময় রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে নিজ উদ্যোগে সাধ্যমতো রাস্তাটি সংস্কার করেছি।
বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরীফুজ্জামান বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কার করে দেওয়ায় ব্যবসায়ী সাইফুজ্জামানকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। বাগেরহাটে রেমালে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংস্কারের জন্য বরাদ্দ চেয়ে আমরা চাহিদাপত্র পাঠিয়েছিলাম। বরাদ্দ আসছে, আশা করি খুব শিগগির ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করা হবে।