গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৬:৫৯ পিএম
আপডেট : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৭:৪৭ পিএম
ব্রোঞ্জের গয়না। প্রবা ফটো
গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ব্রোঞ্জের গয়না জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। এটি জেলার দ্বিতীয় পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি অর্জন করল ।
বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম।
তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে গোপালগঞ্জের ব্রোঞ্জের গয়না নিবন্ধনের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর কর্তৃক জার্নাল প্রকাশ করা হয়। জেলার মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গয়নার এই ঐতিহ্যকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। ব্রোঞ্জের গয়না তৈরিতে সম্পৃক্ত কারিগরদের কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। ব্রোঞ্জ শিল্পভিত্তিক অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে। এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
এ অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কাজী মাহবুবুল আলম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (ডিডিএলজি) মো. আজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শেখ শামছুল আরেফীন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফারহানা জামান উপমা, ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ডিসি)-এর প্রেসিডেন্ট কাকলী তালুকদার প্রমুখ।
ব্রোঞ্জ মার্কেটের ব্যবসায়ী ও জলিরপাড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সুভাষ বৈদ্য বলেন, ‘আমাদের ওয়ার্ডেই ব্রোঞ্জের গয়না তৈরির পল্লী প্রায় ১০০ বছর আগে গড়ে ওঠে। পরে এটি সারা জলিরপাড় ইউনিয়নের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এ পল্লীকে কেন্দ্র করে এখানে ব্রোঞ্জ মার্কেট প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তখন জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গয়নার সুখ্যাতি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এটি বিদেশের বাজারেও যায়। কিন্তু এ শিল্পে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি। তাই সম্প্রতি ভারতসহ বিভিন্ন দেশের ব্রোঞ্জের গয়না আমাদের বাজারের প্রায় ৫০ ভাগ দখল করে নিয়েছে। তারপরও শতাধিক পরিবার জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গয়না তৈরি শিল্প স্বগৌরবে টিকিয়ে রেখেছে। জলিরপাড় ব্রোঞ্জ মার্কেটে এখনও ৪৫টি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে এখনও ব্রোঞ্জের গয়না বিক্রয় করা হয়।’
ব্রোঞ্জ গয়না প্রস্তুতকারক জলিরপাড় গ্রামের জগদীশ শীল বলেন, ‘ব্রোঞ্জ গয়না তৈরির তামা, দস্তা ও পিতলের দাম বেড়েছে। সহজ প্রাপ্যতা কমেছে। ভারতসহ অন্যান্য দেশের ব্রোঞ্জ গয়নার রঙ খুব চকচকে। আমাদের গয়নার রঙ তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারে না। দা সুদৃশ্য, মনোহর ও শৌখিন গয়নার বাজার ভারত ও চীনের দখলে চলে গেছে। তাই কানের দুল, হাতের বালাসহ যেসব গয়নার চাহিদা রয়েছে সেসব গয়না আমরা তৈরি করি। সরকার এ শিল্পকে আধুনিকায়ন, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সব ধরনের সহযোগিতা করলে আমরা ব্রোঞ্জ গয়নার শত বছরের ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারব। এখানে এখনও মানসম্পন্ন কারিগর আছে। আধুনিক যন্ত্রপাতির সমন্বয়ে তাদের কাজে লাগিয়ে আমরাও দামি গয়না তৈরি করতে পারি।’
ই-কমার্স ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (ইডিসি)-এর প্রেসিডেন্ট কাকলী তালুকদার বলেন, ‘গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীর মিঠা পানি ও টেকসইসহ এখানকার ব্রোঞ্জের গয়নার বিভিন্ন বিশেষত্ব রয়েছে।’
চলতি বছরের ১২ মার্চ জলিরপাড়ের ব্রোঞ্জের গয়নার জিআই পণ্যের স্বীকৃতি চেয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলোতে আবেদন করা হয়। এর আগে গোপালগঞ্জের রসগোল্লা জেলার প্রথম পণ্য হিসেবে জিআই স্বীকৃতি পায়।