জাকির হোসেন, বুড়িচং (কুমিল্লা)
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১৫:৪৩ পিএম
উচ্ছিষ্টসহ ময়লা আবর্জনায় বেহাল কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজারের চিত্র। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
কৃষিনির্ভর এলাকা হিসেবে সুখ্যাতি আছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার। এই উপজেলার বুক চিড়ে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মোকাম ইউনিয়নের নিমসার ঘিরে আশির দশকে গড়ে ওঠে একটি কাঁচাবাজার। কালক্রমে যা দেশের অন্যতম বৃহৎ কাঁচাবাজার হিসেবে পরিচিতি পায়। নিমসার বাজারে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন অন্তত পাঁচশতাধিক যানবাহন সবজি, মৌসুমি ফলসহ অন্যান্য পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আসে। এই বাজারের সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলাগুলোর স্থানীয় চাহিদা মেটায়। এতে প্রতিদিন বাজারটিতে কয়েক হাজার মানুষের আনাগোনা হয়ে থাকে। হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় হলেও বাজারটিতে যত্রতত্র তরিতরকারির উচ্ছিষ্টসহ ময়লা আবর্জনা ফেলায় পুরো বাজারটি কাদাসহ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে খেয়াল নেই বাজার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। অভিযোগ রয়েছে, প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও সংস্কারের নেই কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ। ফলে জল-কাদায় চরম দুর্ভোগে পড়েন ক্রেতা-বিক্রেতারা।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসারে বাজারের অবস্থান। মহাসড়কের উভয় পাশে কমপক্ষে দুইশ মিটারেরও বেশি এলাকায় চালু রয়েছে বাজারটি। প্রতিদিন রাত যত গভীর হয় বাজারের ব্যস্ততা তত বাড়তে থাকে। আবার বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে বাজারের কর্মব্যস্ততা। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তরকারি, মৌসুমি ফলসহ নানা পণ্য কাভার্ডভ্যান, ট্রাকযোগে নিয়ে আসে বিক্রেতারা। আবার সেখান থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা এসব পণ্য কিনে নিয়ে যায় বিভিন্ন স্থানে। বাজারটি মহাসড়কের পাশে হওয়ায় উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এ বাজারে নেই কোনো ময়লা অবর্জনা ফেলার স্থান। এতে কাঁচাসবজি ও ফলের মতো বিপুল পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের কারণে উচ্ছিষ্টও জমে প্রচুর। ক্রেতা-বিক্রেতারা যত্রতত্র এসব উচ্ছিষ্ট অবাধে ফেলায় ড্রেনগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এ ছাড়াও ভারী যানবাহনের চাপে ড্রেনের ওপর থাকা স্লাবগুলোও ভেঙে পড়ায় পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে, বাজারের কিছু অংশে একদিকে জলাবদ্ধতা, অন্যদিকে তরকারির উচ্ছিষ্ট পচে কর্দমাক্ত অবস্থা তৈরি হওয়ায় হাঁটা-চলায় চরম অসুবিধা হচ্ছে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের। এ ছাড়াও বাজারের আশপাশের মহাসড়কের কোলঘেঁষে কয়েকশ মিটার এলাকায় ময়লা-আবর্জনার স্তূপ থেকে নির্গত দুর্গন্ধের কারণে বায়ুদূষণের পাশাপাশি নানা রোগবালাইয়ে ভুগছে সাধারণ মানুষ।
মহাসড়কের পাশে বাজার বসার বিষয়ে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নিমসার বাজারে প্রতিদিনই ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, অটোভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা, ইজিবাইকসহ কয়েকশ যানবাহন থেকে পণ্য ওঠানামার কাজ চলে সড়কের ওপরই। এতে করে প্রতিনিয়তেই চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবানসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে চলাচলরত যানবাহনগুলো দীর্ঘ যানজটের কবলে পড়ে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই সবজি বাজার প্রতি বছর আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় কোটি টাকা ইজারা দেওয়া হয়। কিন্তু এখানে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের সমস্যা নিরসন ও তাদের সুবিধার্থে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায় না বাজার পরিচালনাকারীদের।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। আমরা কী অবস্থায় ব্যবসা করছি সেটা একমাত্র আল্লাহই জানেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়। এসব দেখার কেউ নেই।
নিমসার বাজারের ইজারাদার আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। প্রতিবারই তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ ছিল। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় মোকাম ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব আলী বলেন, প্রতি বছর এই বাজার থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হলেও সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই । হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা, আড়তদারের ব্যবহারের জন্য টয়লেট সুবিধা না থাকায় যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগসহ ময়লা-আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও মহাসড়কের ওপরসহ আশপাশের এলাকায় তরকারির আবর্জনা ফেলা সেগুলো পচে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে। মহাসড়কের দু’পাশে অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলায় সৌন্দর্যও নষ্ট হচ্ছে। সমস্যা সমাধানে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার বলেন, বাজারের ময়লা-আবর্জনা সরানোর দায়িত্ব আমাদের না। এটা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিন বিষয়টি দেখেছেন। দ্রুতই এর সমাধান হবে বলে আশা করছি। বাজারটি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে টয়লেট ও ডাস্টবিন নির্মাণ করা যাচ্ছে না।