উন্নয়ন
অপরাধ সাম্রাজ্য এখন স্বস্তির জনপদ
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৪ ১০:৩৯ এএম
গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়ার বদলে যাওয়ার চিত্র। সম্প্রতি তোলা। ছবি কোলাজ : প্রবা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ব্যস্ত এলাকা চনপাড়া। একসময় এলাকাটি পরিচিত ছিল মাদক আর অপরাধের সাম্রাজ্য হিসেবে। তবে সেই দিন আর নেই। সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে এই জনপদেও। পাল্টে গেছে চনপাড়ার দৃশ্যপট। বিশেষ করে গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক সংসদ সদস্য হওয়ার পর থেকে শুরু হয় চনপাড়ার এই দিনবদলের পথযাত্রা। অপরাধ সাম্রাজ্য থেকে এটি এখন স্বস্তির জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাদক ও সন্ত্রাসের আতঙ্ক থেকে অনেকটাই মুক্ত পরিবেশে চনপাড়াবাসী যার যার দৈনন্দিন কাজকর্ম নিয়ে দারুণ ব্যস্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একজন বললেন, একসময় মাদকের হাট হিসেবে পরিচিত ছিল এই এলাকা। কিন্তু এখন মাদক ও সন্ত্রাসীদের উৎপাত কমেছে। প্রশাসনের কঠোর অবস্থানে মদক ব্যবসায়ী এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
এ প্রসঙ্গে আলাপকালে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা গত মঙ্গলবার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এ এলাকা একসময় মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এমপি মহোদয়ের নির্দেশে আমরা মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, চনপাড়ার পরিস্থিতি এখন আর আগের মতো নেই। সবকিছুই উন্নত হয়েছে। শিক্ষার হার বাড়ায় অপরাধপ্রবণতা কমে আসছে। আমাদের কঠোর নজরদারির কারণে অপরাধীরা এখানে সুবিধা করতে পারছে না।
এলাকাবাসীর মতে, স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার কর্মযজ্ঞ চলার সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাহত, পঙ্গু ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা এবং বীরাঙ্গনাদের পুনর্বাসন করেন এখানে। এলাকাটির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পর থমকে যায় এই জনপদের উন্নয়ন।
এরপর ধীরে ধীরে চনপাড়া হয়ে ওঠে মাদক, জুয়া, চাঁদাবাজি, চুরি, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের স্বর্গরাজ্য। ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এই জনপদের উন্নয়নে মনোনিবেশ করেনি। ২০০৯ সালের আগে চনপাড়ায় পাকা রাস্তাঘাট, গ্যাস, পানিÑ ইত্যাদি নাগরিক সুবিধার কিছুই ছিল না। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোলাম দস্তগীর গাজী প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে চনপাড়া। টানা চারবার নির্বাচিত এই জনপ্রিয় এমপির সুযোগ্য নেতৃত্বে একে একে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, পানি নিষ্কাশন, পয়ঃনিষ্কাশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের সুবাদে বদলে গেছে চনপাড়ার ভাগ্য।
এলাকাবাসী আরও জানায়, গোলাম দস্তগীর গাজী এমপি হওয়ার পর তার প্রথম উন্নয়ন কাজ শুরু করেন চনপাড়া থেকে। তিনি চনপাড়াবাসীর পানির সংকট দূর করেন। গ্যাসের সংযোগ এনে দেন। শতভাগ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেন। নবকিশলয় হাইস্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজে একটি পাঁচতলা, দুটি চারতলা ভবন এবং একটি তিনতলা ভবন নির্মাণের বন্দোবস্ত করে দেন। স্কুলটিতে ‘গার্লস কলেজ’ যুক্ত করার ফলে নারী শিক্ষার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এ এলাকার মেয়েরা শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে গেছে। চনপাড়ায় কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছিল না। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বীরপ্রতীক গোলাম দস্তগীর গাজী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নির্মাণ হয়েছে।
নবকিশলয় হাইস্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ নজিবুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চনপাড়ার উন্নয়ন বন্ধ হয়ে যায়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার চনপাড়াবাসীর জন্য তেমন কোনো উন্নয়ন করেনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর গোলাম দস্তগীর গাজী চনপাড়াবাসীর ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। তিনি শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তার প্রচেষ্টায় জনকল্যাণ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারিকরণ হয়েছে। মন্ত্রীর বিশেষ বরাদ্দে একটা দোতলা ভবন হয়েছে। আরেকটা তিনতলা ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের কমিউনিটি ক্লিনিকটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় চার যুগ এখানে চিকিৎসাব্যবস্থা ছিল না। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ক্লিনিকটি আবার চালু করে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবির পর গোলাম দস্তগীর গাজী নিজেও চনপাড়ার চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বিশেষ অনুদান দেন। একটা সময় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের জনগণের ভোটাধিকার ছিল না। সে অধিকার আদায়ে মামলা করা হয় কোর্টে। ২০১০ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে ভোটার হন পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিটি মানুষ। ওই সময় মামলা পরিচালনাসহ সমস্ত ব্যয় বহন করেন গোলাম দস্তগীর গাজী।
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌসি আক্তার রিয়া বলেন, চনপাড়ার মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্রই ছিল না। আমাদের এমপি সাহেব সবার আইডি কার্ড করে দিয়েছেন। সেখানে মানুষের থাকার পরিবেশ ছিল না, কিন্তু এমপি গাজীর ছোঁয়ায় একদম বদলে গেছে চনপাড়া।
তিনি আরও বলেন, একসময় মানুষ বলত চনপাড়া বস্তি। কিন্তু বর্তমানে কেউ সেখানে গেলে বলতে পারবে না এটা বস্তি। দেখে মনে হবে যেন একটি আধুনিক শহর।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানায়, ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে যোগাযোগব্যবস্থা ছিল নাজুক। পাকা কোনো রাস্তা ছিল না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গোলাম দস্তগীর গাজী শেখ রাসেল নগর ইউনিয়নের প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে পাকা সড়ক নির্মাণ করে দিচ্ছেন।
উপজেলা পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে চনপড়ায় ঢোকার জন্য আরসিসি ঢালাই দিয়ে তিনটি সড়ক করা হয়েছে। এই তিনটি রাস্তার সঙ্গে ১৫ থেকে ১৬টি কানেকটিং রুট বানানো হচ্ছে। ডেমরা থেকে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ ভায়া কায়েতপাড়া সড়ক নির্মাণকাজ চলছে। এগুলো সম্পন্ন হলে গাজীপুর, কালীগঞ্জ, রূপগঞ্জ ও ৩০০ ফুট সড়ক হয়ে সহজে যাতায়াত করা যাবে। এতে চনপাড়ার মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মেহমুদ মুরশেদ উল আল আমিন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, পনের বছর আগের চনপাড়া, আর এখনকার চনপাড়া সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে বিশুদ্ধ পানির অভাব ছিল, জীবনযাত্রার মান ছিল খুব নিম্নমানের, কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি একদম পাল্টে গেছে।
তিনি আরও বলেন, এলজিইডি এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষ করেছে। আরও কিছু কাজ চলমান রয়েছে। রূপগঞ্জের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজী চনপাড়াকে একটি আদর্শ নগর হিসেবে উপস্থাপন করতে কাজ করে যাচ্ছেন।
কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ জাহেদ আলী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বিভিন্ন এলাকা থেকে অসহায় মানুষদের এনে জায়গা দিয়েছিলেন চনপাড়ায়। এই এলাকায় বর্ষাকালে কখনোই চলাফেরা করা যেত না। রাস্তায় হাঁটুপানি হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের এমপি গোলাম দস্তগীর গাজীর কারণে এসব রাস্তা এখন পাকা। ইলেক্ট্রিসিটি আসছে, গ্যাস আসছে, প্রতিটি মহল্লায় এমপি সাহেব নিজের অর্থায়নে গাজী পাম্প লাগিয়েছেন।
কায়েতপাড়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সেলিনা আক্তার রিতা বলেন, গাজী সাহেব এলাকার চিত্র পাল্টে দিয়েছেন। একসময় এখানকার ছেলেমেয়েদের বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করতে হতো, এখন বাইরে থেকে মানুষ এসে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে।
তিনি বলেন, শুধু শিক্ষা নয়, এই এলাকার সব রাস্তা পাকা হয়ে গেছেÑ নতুন কোনো কাঁচা রাস্তা খুঁজে পাই না যে কাজ করাব। আগে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ছিল না, কয়েক বছরে এমপির নিজস্ব অর্থায়নে ৯০ থেকে ৯৫টি নলকূপ বসানো হয়েছে। বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতার কথা আমরা জানতাম না, আজকে এমপি সাহেব সবকিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।